মেহেদী হাসান সিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:২১ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষালয় ‘সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম’ জনবল সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছে। আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে জেলার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট নিরসন করা গেলেই আবারও শুরু হবে জেলার একমাত্র সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষালয়টির কার্যক্রম এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমটি দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পুরাতন বাজারের কামাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবনে চলছিল। প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের পর জেলা শহরের স্বরূপনগর শিক্ষালয়টি স্থানান্তর করা হয়। সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমটি প্রথম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করে থাকে। এতে শিশুদের বিনামূল্যে ব্রেইল বই, হোস্টেল সুবিধা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। অথচ প্রায় ৪ বছর ধরে জনবলের অভাবে শিক্ষালয়টির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষালয়টিতে মঞ্জুরী পদের সংখ্যা ৪টি। একজন রিসোর্ট শিক্ষক থাকলেও বাকি হাউজ প্যারেন্ট কাম টিচার, অফিস সহায়ক ও নৈশ্য প্রহরীর পদ আছে শূন্য। আউট সোর্সিংয়ে একজন রাঁধুনী আছেন। কিন্তু কোনো ছাত্র-ছাত্রী না থাকায় তিনি এখন সরকারি শিশু পরিবারে কর্মরত।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুশফিকুল হাসনাত সিয়ামের নানি সায়েমা খাতুন বলেন, এই শিক্ষালয়টি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। কিন্তু জনবল না থাকার কারণে আমার নাতিকে আমি বাড়ি নিয়ে এসেছি। দ্রুত জনবল নিয়োগ হলে আবারও তাকে সেখানে পাঠাব।
তিনি আরও বলেন, এই শিক্ষালয়ের কার্যক্রমটি চালু করার জন্য আমি অনেক দিন অনেক জনের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা লেখাপড়া করে তাদের জীবনের আলো ফিরে পাবে। তাদের আর কেউ সমাজের বোঝা মনে করবে না।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে কুলসুম জানান, এই কার্যক্রমটি বন্ধের মূল কারণ হলো প্রশিক্ষিত জনবল না থাকা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪টি মঞ্জুরীকৃত পদ থাকলেও শুধু একজন রিসোর্স শিক্ষক কর্মরত আছেন। হাউজ প্যারেন্ট, টিচার, অফিস সহায়ক ও নৈশ্য প্রহরীর পদগুলো শূন্য থাকায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ২০১৯ সালে ভর্তি হওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ২০২১ সালে তাদের অভিভাবকের কাছে ফিরে গেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবগত করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে জনবল নিয়োগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে আবারও শুরু হবে জেলার একমাত্র সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষালয়টির কার্যক্রম।