বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪৬ এএম
নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রবীণ এক নারীকে মুখমণ্ডল থেঁতলে হত্যা করে তার পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর নাম মমতাজ বেগম (৭০)। তিনি বনপাড়া পৌর শহরের সরদারপাড়া মহল্লার মরহুম শফিউল্লাহর (শফি ইঞ্জিনিয়ার) সহধর্মিণী। রবিবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মমতাজ বেগম একাই এই বাড়িতে থাকতেন। তবে তার জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল দুইজন গৃহকর্মী। মমতাজের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে জাকির হোসেন মঞ্জু স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সংলগ্ন বাবার রেখে যাওয়া আরেকটি বাড়িতে বসবাস করেন। মেয়ে বেবি আক্তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। মমতাজ বেগমকে সারাদিন দেখাশোনা করতেন গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম (৪০)। রাতে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন কাজী আবু শামা (৬০)।
সাংসারিক কাজ সেরে রবিবার সন্ধ্যায় চলে যান গৃহকর্মী সুফিয়া। প্রহরী আবু শামা সরদারপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে ওই বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন মমতাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। তার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। আবু শামা চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকলে প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করে। দ্রুত বনপাড়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মমতাজ বেগমের ছেলে মঞ্জু জানান, ফাঁকা বাড়িতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ঢুকে আমার মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুই হাতে থাকা স্বর্ণের বালা-চুড়ি, আঙ্গুলে থাকা তিনটি সোনার আংটি ও গলার চেইন খুলে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা আমার মায়ের পরিচিত। তাই তারা আমার মায়ের মুখমণ্ডল ফ্লোরে গুতিয়ে গুতিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি এই খুনীদের দেখতে চাই, এই খুনীদের দ্রুত খুঁজে বের করে ফাঁসি দাবি করছি।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক সুমন চন্দ্র দাস জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তবে মূল ঘটনা উন্মোচনের জন্য থানা পুলিশ ও পিবিআই মাঠে নেমেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত ও আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।