শেখ সিরাজুল ইসলাম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৫ এএম
মন মিয়া। প্রবা ফটো
বাঁশ-বেতের সাথে দীর্ঘ ৫৪ বছর জড়িয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের দারমা গ্রামের মিস্ত্রি বাড়ির মৃত বন্দে আলীর ছেলে মন মিয়ার (৭৫) জীবন। ১৯৭১ সালে ২১ বছর বয়স থেকেই বাঁশ দিয়ে খোলই, টাফা বানিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে আসছেন। জীবনে অনেক ব্যবসা করলেও পারিবারিকভাবে পাওয়া এই ব্যবসা ছাড়েননি তিনি।
বাঁশ বেতের কাজ ভালো লাগলেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন পরিশ্রম করতে কষ্ট হয় মন মিয়ার। তবুও সংসারের অভাব-অনটনের কারণে বাধ্য হয়েই করতে হয় কাজ।
মন মিয়া জানান, বিজয়নগরের হরষপুর ও স্থানীয় বাজার থেকে বাঁশ, বেত কিনে এনে জিনিসপত্র তৈরি করেন। বাঁশ বেতের খোলই, টাফা বাড়িতে বসে সপ্তাহের ৫ দিনে ১৫ থেকে ২০টি তৈরি করেন। শাহবাজপুর, নোঁয়াগাও, সুলতানপুর, দত্তখোলা, মনিপুর, সুহিলপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সপ্তাহে দুই দিন বিক্রি করেন। প্রতিটি ১৫০ থেকে ২০০ করে বিক্রি করতে পারেন।
৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় প্রতিটি বাঁশ কিনে আনেন মন মিয়া। আগে দিগুণ লাভ হতো। বর্তমানে বাঁশের দাম বেশি থাকায় লাভ কমে গেছে।
এক সময় নৌকা বাইচে অংশ নিতেন মন মিয়া। ডাং গুটি ও হাডুডু খেলায় পারদর্শী ছিলেন। মাঝে কয়েক বছর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, খুলনা থেকে গরু কিনে এনে ব্যবসা করেছেন। তবুও পৈতৃক পেশাকে ছাড়েননি। ধরে রেখেছেন ঐতিহ্য হিসেবে।
বোনেরা পৈত্রিক সম্পত্তি কৌশলে লিখে নিয়েছেন, বঞ্চিত হৃদয়ের সেই কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আপন বোনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমি দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করছি।
কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করে অসুস্থ হলেও থেমে নেই জীবন সংগ্রাম। ৫৪ বছরের বাঁশ-বেতের সাথে আমার চিরমিতালী।
মজলিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নবনুর শিশু শিক্ষালয়ের শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকে মন মিয়াকে এই কাজের সাথে দেখছি।