চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৫ এএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঠিকাদারের বেয়াইয়ের প্রতিহিংসায় পাকা হয়নি ৬৫ বছরের পুরনো ২০০ ফুট সড়ক। এতে ভোগান্তি বেড়েছে এলাকাবাসীর। উজিরপুর ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, আশরাফপুর-কোমারডোগা সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আশরাফপুর গ্রামীণ সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার পায় মেসার্স ফাতেম ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী অলিউর রহমান মজুমদার। গত বছর মার্চের আগে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা সড়কে দীর্ঘ ভোগান্তি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গতমাসে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। সড়কের প্রবেশমুখে কিছু অংশ পাকা করে এরপর ২০০ ফুট বাদ দিয়ে বাকি সড়ক পাকা করেই কাজ শেষ করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠিকাদারের বেয়াই মো. হানিফের প্রতিহিংসায় পাকাকরণ হয়নি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ওই অংশ।
এলাকাবাসী জানায়, ১৯৬০ সাল থেকে আশরাফপুর গ্রামীণ সড়কটি সরকারিভাবে সংস্কার হয়ে আসছে। কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফ ১৯৯৫ সালে নির্মাণাধীন সড়কের পাশে জমি কেনেন। এরই মধ্যে তিনি দুজন ক্রেতার কাছে জায়গাটি বিক্রির মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর করেন। তার পুরাতন জমির উত্তরপাশে কিছু জমি বর্তমানে অবশিষ্ট আছে। রাস্তার পাশে তার কোনো জমি নেই। অথচ পূর্ব পাশের নজির আহমেদ কেনা জমিতে গৃহনির্মাণের কাজ শুরু করলে মো. হানিফ তাতে বাধা দেন। এছাড়া দক্ষিণপাশে রয়েছে নুরুল ইসলাম ও তার ভাইদের ফসলি জমি। তিন বছর আগে তৎকালীন সহকারি কমিশনার (এসিল্যান্ড) তমালিকা পাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সড়কটি পরিদর্শন ও পরিমাপ করেন। সড়কের পাশের নির্মাণাধীন স্থাপনাসমূহ স্ব স্ব অবস্থানে বহাল থাকবে বলে নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে হানিফ এডিএম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত এসিল্যান্ড ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে তারা পৃথকভাবে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হানিফের ১৪৫ ধারার মামলা খারিজ হয়ে যায়।
কিন্তু সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হলে মো. হানিফ সড়কটি নিজের বলে দাবি করে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ এলজিইডি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি আশরাফপুর গ্রামের বাসিন্দা দাবি করলেও তিনি পাশের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে এলাকাবাসী জানান। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০০ ফুট সড়ক সংস্কার বা পাকাকরণ না হওয়ায় পুরো সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। হানিফ ব্যক্তিস্বার্থে নজির আহমেদ, নুরুল ইসলাম মেম্বার ও তার ভাইদের সঙ্গে না পেরে সড়কের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ বিষয়ে মো. হানিফ বলেন, সড়কের জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জনবহুল এলাকায় ২০০ ফুট সড়ক সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তির কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এর বেশি কিছু তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঠিকাদার অলিউর রহমান মজুমদার বলেন, ‘আশরাফপুর এলাকায় সড়ক সংস্কারে আনুমানিক ২০০ ফুট জায়গা নিয়ে ঝামেলা থাকায় কাজ করা হয়নি। অফিস এখনো আমাদের পূর্ণাঙ্গ বিল দেয়নি। ঝামেলা শেষ হলেই সড়কটি সংস্কার করা হবে। তবে সড়কের কাজের সঙ্গে আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই বলেন, ৬০-৬৫ বছরের আগের সড়কটির মধ্যে হানিফ নিজের জায়গা রয়েছে বলে দাবি করছে। এসিল্যান্ড বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েক বছর আগে সমস্যার সমাধান করেছেন। তবুও হানিফ ওই সড়কের সংস্কার কাজ না করতে কেন এমন করছে আমার জানা নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাজ ঝামেলাবিহীন সড়কের উন্নয়ন করা। আশরাফপুরে সড়ক নিয়ে সম্ভবত আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। সেজন্য কিছু অংশ সংস্কার করা হয়নি।’