বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:১৯ পিএম
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু।
বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের মোটরসাইকেল থেকে হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজ্জাকুল ইসলাম রাজুকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চক ভোলাখাঁ এলাকায় বিপুল সংখ্যক নারী, পুরুষ ও আত্মীয়-স্বজন পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির পর তাকে ছিনিয়ে নেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু বগুড়া শিবগঞ্জ সদরের চক ভোলাখাঁ এলাকার বদর উদ্দিন বদরের ছেলে। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি উপজেলা ছাত্রলীগেরও সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরকদ্রব্য, হামলা ও ভাঙচুরসহ ১২টি মামলা হয়। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
শনিবার রাতে নিজ গ্রামে মামাতো ভাই শাহ আলমের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন রাজু। গোপনে এমন খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার এসআই আল মামুন সাদা পোশাকে এক কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে অভিযান চালান। একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তোলেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে বিপুল সংখ্যক নারী, পুরুষ ও আত্মীয়-স্বজন মোটরসাইকেল ঘিরে ফেলেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাজুর স্বজনরা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আত্মীয়-স্বজনরা মোটরসাইকেল ঘিরে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আসামি রাজুকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না তা তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরকদ্রব্য, হামলা, ভাঙচুরসহ রাজনৈতিক ১২টি মামলা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকাল পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।