বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
টানা ভারী বর্ষণে বগুড়া শহরের অধিকাংশ সড়ক, খেলার মাঠ ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে চলা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে হাঁটুপানি জমে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক চলাচল।
বৃষ্টির পানির সঙ্গে নালার নোংরা পানি ঢুকে পড়েছে অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। গণপরিবহনের সংকটে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
শহরের নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নালা সংস্কার ও পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার অভাবে বগুড়ায় জলাবদ্ধতা এখন চিরচেনা দৃশ্য। পুরোনো নালা সংস্কার ও খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না বলে তারা মনে করেন।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং আগামী কয়েকদিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা ও আশপাশের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, শেরপুর সড়ক, সার্কিট হাউস রোড, পার্ক রোড, নওয়াববাড়ি সড়ক, বাদুরতলা, খান্দার, গালাপট্টি, চকযাদু ক্রস লেন, ফতেহ আলী বাজার ও কাঁঠালতলা এলাকায় হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা গেছে। বিকাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় পানি নামেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অনেক এলাকা তলিয়ে যায়। বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশের সরু নালা প্রায় সময় আবর্জনায় ভরে থাকে। করতোয়া নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা ও পুরোনো খাল-জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক মাসুম আলী বেগ বলেন, শহরের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে দুই হাজার কিলোমিটার নালা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবে তার অর্ধেকও নেই। অনেক পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নালা না থাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, নালা পরিষ্কার ও নতুন নালা নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজও চলছে।