জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৫৪ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ-রৌয়াইল সড়ক বালিশ্রী গ্রামের গোলজার মিয়ার বাড়িসংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন রোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বরাদ্দ করে। সরকারি এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অল্প কাজ করে অর্থ লোপাট করার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এ এলাকার ১৭টি গ্রামের মানুষ।
রবিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত স্থান বালিশ্রী গ্রামে গোলজার মিয়ার বাড়ির সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বালিশ্রী গ্রামের বসতবাড়িসহ পাকা সড়কটি বিলীন হচ্ছে, রানীগঞ্জ-রৌয়াইল বালিশ্রী সড়কটি নদী ভাঙনের শিকার হওয়ায় এলাকার স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকার ১৭টি গ্রামের জনসাধারণ যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বালিশ্রী গ্রামের গোলজার মিয়ার বাড়ির সামনে প্রায় দুইশত ফুট সড়ক একেবারেই কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। ওই ভাঙনকবলিত স্থানে ২৩ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভাঙন রোধের জন্য ৫৪ লাখ টাকার সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ হয়, তবেÑ ঠিকাদার প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে বেশির ভাগ অর্থ সংশ্লিষ্টরা লুটপাট করেছে।
বালিশ্রী গ্রামের আলতাউর রাহমান বলেন, আমাদের ১৭টি গ্রামের চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটি কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে, সরকার সড়কটি ভাঙন রোধের জন্য জিও ব্যাগ প্রকল্প বরাদ্দ দেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অর্ধেক স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
আলমপুর গ্রামের আব্দুল মুক্তাদির খালেদ বলেন, সরকারি প্রকল্প এভাবে লোপাট করা নজিরবিহীন, যারা সড়কের ভাঙন প্রকল্প লোপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে বালিশ্রী সড়ক, এই সড়কটির ভাঙন রোধের জন্য জিও ব্যাগ প্রকল্প দেওয়া হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ হয়নি, যেকোনো সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে, এজন্য স্থায়ী ব্লক প্রকল্প দিয়ে সড়কটি রক্ষা করা প্রয়োজন।
বালিশ্রী গ্রামের আলখাছ মিয়া বলেন, বালিশ্রী গ্রামের গোলজার মিয়ার বাড়ির সামনে সড়কটিকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, লোক দেখান কাজ করে ঠিকাদার উধাও হয়েছেন।
মানববন্ধনে ১৭টি গ্রামের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার শতাধিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।