চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২২ পিএম
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ‘বীর নিবাস’। ছবি : প্রবা
সারাদেশের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ (ঘর) নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার ৭৮৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসস্থান হিসেবে পাবেন বীর নিবাস। তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য এ সব বীর নিবাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। এ সব বীর নিবাস নির্মাণে ৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। একেকটি বীর নিবাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের নির্মাণ বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ৭৮৪টি বীর নিবাসের মধ্যে সন্দ্বীপে রয়েছে ৪৫টি, মিরসরাইয়ে ২৩৪টি, সীতাকুণ্ডে ৫৫টি, ফটিকছড়িতে ১৩০টি, রাউজানে ৪৫টি, হাটহাজারীতে ৫৪টি, চন্দনাইশে ২৭টি, সাতকানিয়ায় ১৪টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৯টি, বাঁশখালীতে ১৩টি, বোয়ালখালীতে ৩২টি, লোহাগাড়ায় ১৫টি, পটিয়ায় ৪২টি ও আনোয়ারায় ৩৮টি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, জেলায় ৭৮৪ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সমন্বিত তালিকা অনুসারে চট্টগ্রামে মোট ৮ হাজার ২৬২ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলার গরীব ও জমি আছে ঘর নেই এমন মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গরিব মুক্তিযোদ্ধারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে মহানগরেও অনেক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তাদেরকেও এমন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বীর নিবাসের আনুসঙ্গিক বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ২২ ফুট প্রস্থ আর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সব ঘরে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি ড্রইং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি কিচেন রুম ও দুটি বাথরুম। থাকছে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।’
বাঁশখালীতে বীর নিবাস নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলার ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দশটির নির্মাণকাজ শেষ। শিগগিরই বাকি তিনটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।’