বাউফল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪৫ এএম
পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষে মা ইলিশ রক্ষায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ২২ দিনের অভিযানের প্রথমদিন শনিবার বিকাল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীতে এ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছিলেন।
এদিকে ফেসবুকে লাইভে এসে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা নদী থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। ফেসবুক লাইভে এসে এমন হাস্যকর অভিযান নিয়ে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, দেশের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি ও ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার লক্ষে সারাদেশে ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। অভিযানের প্রথমদিন (শনিবার) বিকাল পাঁচটার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। যার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম। ট্রলারে ওঠার সঙ্গে অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য ফেসবুক লাইভ শুরু করেন। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে যায়। এতে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান শুরুর আগেই অসাধু জেলেরা নদী ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান নিয়ে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই ফেসবুক লাইভ করে অভিযানকে চোর ধরতে নেমে চোরকেই সজাগ করে দেওয়ার মত ঘটনা বলে মন্তব্য করছেন। ফেসবুক লাইভে মাহবুব রহমান নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘অভিযানে যেতে হয় চুপিচুপি, এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে গেলে চোর পালিয়ে যাবে।’
এইচএম নামির আহমেদ টিটু নামে আরেকজন মন্তব্য করে বলেন, ‘আপনি তো গোপন খবর ফাঁস করে দিলেন।’ বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘লাইভ করে অভিযান পরিচালনা করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
বিষয়টি জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, ‘নৌপুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্যবিভাগ একাধিক ট্রলার নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছেন। আমি যে ট্রলার নিয়ে অভিযানে নেমেছি, সেই ট্রলার থেকে কোনো লাইভ করা হয়নি। অন্য কোনো ট্রলার থেকে লাইভ করায় অসাধু জেলেরা সতর্ক হয়ে নদী ত্যাগ করেছেনÑ এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’