শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু শরীফ বাহিনী। গত মঙ্গলবার রাতে বনের শরণখোলা রেঞ্জের মরাভোলা ও ধনচেবাড়িয়া খাল এলাকা থেকে অপহরণ করেন বনদস্যু বাহিনী। এদের মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত এসেছেন তিন জেলে। তবে এখনো দুই জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জাল ফেলার সময় দস্যুরা অস্ত্রের মুখে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তিনজনকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিলেও শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রাকিব এখনো দস্যুদের কবলে রয়েছেন।
জিম্মি থেকে ফেরা জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, সেদিন রাত ৯টার দিকে ৮ জন অস্ত্রধারী দস্যু হঠাৎ আমাদের বহরে হানা দেয়। তারা আমাদের মাছ লুট করে নেয় এবং তিনজনকে তুলে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ পাওয়ার পর শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে আমাদের একটি নৌকায় ফেরত পাঠানো হয়।
জিম্মি সাদ্দামের মা মঞ্জু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে আরেকজনের সাথে এখনো দস্যুদের হাতে বন্দি। তারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাইছে। আমরা গরীব মানুষ, এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাদের কী হবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর সম্প্রতি সুন্দরবনে আবারও দস্যুতার তৎপরতা বেড়েছে। জেলেরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। মহাজনরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে শরণখোলা থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ জানান, এখনো এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সূত্র জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কয়েকজনকে আটক ও জিম্মিদের উদ্ধার করা হয়েছে। দস্যু নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।