গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:১৯ পিএম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জয়পুরপাড়ায় অবস্থিত আদিবাসী সাঁওতাল শহীদ শ্যামল-মঙ্গল-রমেশ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠ দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ দখলমুক্তের দাবি জানান। এ কর্মসূচির আয়োজন করে গাইবান্ধা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ।
সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকে, গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাড. মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক, জেলা বার সদস্য অ্যাড. কুশলাশীষ চক্রবর্তী, অ্যাড. ফারুক কবীর, আদিবাসী নেতা ব্রিটিশ সরেন, লুইস মুরমু, নমিতা টুডু, শিক্ষক প্রিসিলা মুরমু, সাংস্কৃতিক সংগঠক খন্দকার নিপন, রবিদাস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খিলন রবিদাস, শ্রমিক নেতা কাজি ওয়াদুদ, অভিভাবক প্রদীপ টুডু, শারমিন মার্ডি, অলিভিয়া হেবরম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় আদিবাসী ও হিতৈষী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই স্কুল ও সংলগ্ন মাঠ। কিন্তু সম্প্রতি শাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের আতাউর রহমান সাবু ও আব্দুর রউফ বাবু মেম্বার বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দখলচেষ্টাকারীরা শুধু মাঠ দখলের চেষ্টা করছে না, বরং স্কুলের আসবাবপত্র ও টিনের বেড়া নষ্ট করেছে, মাঠে খেলার সময় গোলবার ভেঙে দিয়েছে, এমনকি শিক্ষকদের হুমকি ও অপমানও করেছে। বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে মাছ চাষের আয় বিদ্যালয়ের পরিচালনায় ব্যবহৃত হলেও সাবু ও বাবু সেখানে চাঁদা দাবি এবং ফসল চাষে বাধা দিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবগত করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি লিখিত স্মারকলিপি দাখিল করেছেন। তবে এখনও বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
বক্তারা বলেন, শহীদ স্মৃতি স্কুল ও মাঠ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মত্যাগ ও অস্তিত্বের প্রতীক। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদ্যালয় ও মাঠ দখলমুক্ত করার দাবি জানান।