× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে শাহ আমানতে, ফিরছে বিদেশি এয়ারলাইনস

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৫৭ পিএম

কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে শাহ আমানতে, ফিরছে বিদেশি এয়ারলাইনস

একসময় চট্টগ্রাম থেকেই আকাশপথে জেদ্দা, মদিনা, আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, মাসকট কলকাতা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া যেতে পারতেন এই অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে একে একে বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইনস চট্টগ্রাম থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ২০২০ সালের পর গত সাড়ে চার বছরে ৫টি এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ ঘোষণার পর সম্প্রতি দুটি এয়ারলাইনস পুনরায় চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর সালাম এয়ার চট্টগ্রাম-মাস্কট রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করেছে। ২৬ অক্টোবর পুনরায় অপারেশন শুরু করবে ফ্লাই দুবাই। এতে সংকট কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে বিমানবন্দরে। 

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সালাম এয়ার এখন সাত দিনে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে খুব শিগগির তারা দিনে দুটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ফ্লাই দুবাই ২৬ অক্টোবর থেকে আবারও চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনার শুরু করবে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ারও চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরুর চিন্তাভাবনা করছে। 

প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, আগে ফ্লাইট পরিচালনার সময় অনেক সিট খালি থাকত। কিন্তু এখন প্রতিটি ফ্লাইটে ৯০ শতাংশের মতো যাত্রী থাকে। যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনসগুলো আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে। 

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শাহ আমানত থেকে বিদেশি দুটি এয়ারলাইনসসহ মোট চারটি এয়ারলাইনস জেদ্দা, মদিনা, আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, মাসকট রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এয়ারলাইনসগুলো হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া এবং সালাম এয়ার। অন্যদিকে চারটি এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ারলাইনসগুলো হলো- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, এয়ার আস্ট্রা এবং নভোএয়ার। 

প্রকাশ গত চার বছর ধরে এই বিমানবন্দরে ধারাবাহিকভাবে বিমানযাত্রী বাড়ছে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ মিলে বিমানবন্দরে ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ জন যাত্রী যাতায়াত করে। পরের বছর ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭ জন যাত্রী যাতায়াত করে। আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বেড়ে ২০২৪ সালে এই বিমানবন্দরে ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৬১১ জন যাত্রী যাতায়াত করে। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৬ মাসে যাতায়াত করেছে ৭ লাখ ১৬ হাজার ৪২১ জন যাত্রী। 

একই সময়ে বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ১৯ হাজার ৯৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। কিছুটা বেড়ে পরের বছর ২০ হাজার ৫০৮ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে ফ্লাইট পরিচালনা কিছুটা কমে ওই বছর শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালিত হয় ১৮ হাজার ৭১৫টি। চলতি বছর আবারও ফ্লাইট পরিচালনা বাড়ছে। চলতি বছরের গত জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে ১১ হাজার ৩০০টি। 

২০০০ সাল থেকে এ বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামা শুরু হয়। এরপর ‘চিটাগাং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ২০০২ সালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্প্রসারণে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ ২০০৭ সালে শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হওয়ার পর একে একে প্রায় ১৭টি এয়ারলাইনস ফ্লাইট শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে। 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর বলেন, মুখ ফিরিয়ে নেয়া এয়ারলাইনসগুলো আবারও শাহ আমানতে ফিরতে শুরু করেছে এটি আমাদের জন্য অনেক ভালো খবর। যত বেশি বিদেশি এয়ারলাইনস এখানে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ততবেশি সম্প্রসারিত হবে। সৌদি এয়ারলাইনস গত দুই বছর ধরে মাঝে মাঝে এসে আমাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেয়। তারা আমাদের জানিয়েছে ফ্লাইট চালুর জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে ভায়াবল হলেই তারা চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় ফ্লাইট চালু করবে। কাতার এয়ারওয়েজও এখানে ফ্লাইট পরিচালনার চিন্তাভাবনা করছে।’ 

তিনি আরও বলেন, জার্মান-ভিত্তিক কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারপোর্ট কনসালটিং পার্টনার জিএমবিএইচ’র মাধ্যমে অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তিগত মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনটি ধাপে এই মাস্টারপ্ল্যানটি আমরা বাস্তবায়ন করব। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ। ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০৭০ সালের মধ্যে আমরা তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা