হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৫ এএম
তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা আব্দুল্লাহর আনারবাগান। প্রবা ফটো
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগিহুদা গ্রামে আনারবাগান গড়ে তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা আব্দুল্লাহ। বিদেশি জাতের আনার চাষে তিনি একদিকে যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে জাগিয়েছেন নতুন উদ্যম।
জানা গেছে, ইউটিউব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২১ সালে পাশের জেলা থেকে ভারতীয় ভাগওয়া জাতের ৯১টি চারা সংগ্রহ করেন সোহেল রানা আব্দুল্লাহ। চারাগুলো এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। এর দুই বছর পর থেকেই গাছে ফুল আসা শুরু হয়। বর্তমানে ফলে ফলে ভরে গেছে তার বাগান। একেকটি গাছে ৩০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত আনার ধরছে। বাগান দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ভিড় জমাচ্ছে। ফলগুলো লালচে-সবুজ আভা ছড়িয়ে ঝলমল করছে, যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা রঙিন তুলির আঁচড়।
স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এই মাটিতে আনার হবে না। কিন্তু এখন দেখছি ফলনে ভরপুর গাছ। দেখে মনটা ভরে যায়। দর্শনার্থী কলেজছাত্র আশিকুর রহমান বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি। সত্যিই চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। মনে হয়, যেন কাশ্মিরের কোনো বাগান।
উদ্যোক্তা সোহেল রানা আব্দুল্লাহ বলেন, প্রথমে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে আমি হাল ছাড়িনি। স্থানীয় বাজারে আনারের চাহিদা ভালো থাকায় আশা করছি, চলতি মৌসুমেই দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব। ভবিষ্যতে আরও জমি নিয়ে আনার চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান এই উদ্যোক্তা। এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আনার বাংলাদেশের আবহাওয়ায় একটি নতুন সম্ভাবনা। আমরা উদ্যোক্তাদের পাশে আছি। সোহেল রানা আব্দুল্লাহর সফলতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।