আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০০ এএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একই গ্রামের ১১ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে এবং বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাই, মাংস কাটায় তারা সংক্রমিত হন এই রোগে।
জানা যায়, বেলকা ইউপি সদস্য কিশামত সদর গ্রামের হাফিজার রহমানের প্রতিবেশী মাহবুর রহমানের একটি গরু অসুস্থ হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কিছুটা কম দামে সেটি স্থানীয়রা কেনেন। এরপর জবাই করেন। মাংস ভাগ করার জন্য ১১ জন মিলে নাড়াচাড়া করেন। এর চারদিন পর বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ওই ১১ জনের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ফোঁসকা ওঠে, মাংসে পঁচন দেখা দেয়। এদের মধ্যে মাহবুর রহমান, মোজাফফর হোসেন, মোজাম্মেল হক ও শফিকুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর হয়। স্বজনরা তাদের গাইবান্ধার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার দে জানান, ১১ জনের অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো নমুনা সংগ্রহ করতে পারিনি।
তিনি বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারাভিযান চলছে। এছাড়া, গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৪০০ ভ্যাকসিন পেয়েছি। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার দেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞাসহ একজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানান, অসুস্থ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজকুমার বিশ্বাস জানান, প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগ সব ইউপি চেয়ারম্যান ও সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। রোগাক্রান্ত পশুগুলোকে একত্রিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম অনুসরণ না করে যদি কেউ পশু জবাই, মাংস বেচাকেনা ও সংরক্ষণ করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।