এমএ ইউসুফ আলী, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৭ এএম
সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’ বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে আছে সোনারচর, হেয়ার আইল্যান্ড, জাহাজমারা আর তুফানিয়ার মতো অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্রসৈকত। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি ইদানীং বিদেশিদেরও পদচারণায় এটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে পর্যটনের নতুন গন্তব্য।
বিস্তৃত জলরাশি, অতিথি পাখির কোলাহল, সবুজ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য আর অফুরন্ত সাগরের ঢেউ-প্রকৃতির এক অনন্য মায়াবী রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার দ্বীপগুলো। এখানে আছে সোনারচর, চর হেয়ার, জাহাজমারা আর তুফানিয়ার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সৈকত। এক ভ্রমণে চার সৈকত দেখার এক বিরল সুযোগ যেন কড়া নেড়ে জানান দিচ্ছে পর্যটকদের। একসময় ছিল শুধু স্থানীয়দের ঘোরাঘুরির জায়গা, এখন রাঙ্গাবালী জায়গা করে নিচ্ছে দেশের পর্যটন মানচিত্রে। বাড়ছে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণা।
এক দেশি পর্যটক ও অভিনেতা সাদ্দাম মাল বলেন, রাঙ্গাবালী পর্যটনের জন্য এক সম্ভাবনাময় জায়গা। এখানে যে চারটি সৈকত আছে তার প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা সৌন্দর্য আছে। আমরা এসব উপভোগ করি এবং মুগ্ধ হই। সব মিলিয়ে মন ভালো করতে আর ঘুরতে অনন্য সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী বারবার কাছে টানে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুধু দেশি নয়, এই সৌন্দর্য টেনে আনছে বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটকদেরও। সম্প্রতি রাঙ্গাবালী ঘুরে মুগ্ধ হয়েছেন হাঙ্গেরির টমাস, চেক রিপাবলিকান নাগরিক রাদেক, মাল্টা থেকে ড্যারেন, সুইজারল্যান্ড থেকে টাচিয়ানা, জার্মানি থেকে হেনড্রিকসহ অসংখ্য বিদেশি পর্যটক।
বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পেছনে কাজ করছেন স্থানীয় যুবক শাওন আহমেদ। কখনও বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে গানের আড্ডায় আবার কখনও তাদের ইচ্ছায় বাংলা শব্দ শেখানোর আড্ডায়। এ ছাড়াও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, জেলেদের জীবন বাজি রেখে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করা, জলে ভাসা মান্তা সম্প্রদায়ের জীবনকাহনসহ নানা বিষয়ে বিদেশি পর্যটকদের ধারণা দিতে বেশ পটু এই যুবক। ইউটিউব থেকে ইংরেজি শিখে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে পরিচিত করছেন রাঙ্গাবালীর দর্শনীয় স্থানগুলোকে।
লোকাল গাইড ও ট্যুর প্রমোটার শাওন আহম্মেদ বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে পারলে রাঙ্গাবালী পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, রাঙ্গাবালীর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি এখানে প্রতিবছর বেশ ভালো সংখ্যক দেশি পর্যটকের পাশাপাশি দুই-তিনজন করে বিদেশি পর্যটকরাও আসছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করণীয় সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।