রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:০২ পিএম
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে তিস্তা পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজ শুরুর দাবিতে জোরালো আন্দোললের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন এ দাবি আদায়ে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে অংশ নেবে, রংপুর বিভাগের ৫ জেলার তিস্তা পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ, নদী অধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনকারীরা ।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিস মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আর্থিক চুক্তি হয়নি। এ বিষয়টিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে চীন কাজ করছে। আমরা জেনেছি, চলতি বছরের শেষে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার কথা দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি। আমরা চাই, নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগে নভেম্বরে নিজস্ব কোষাগারের ২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হোক। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার যারাই আসবে, সেই কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। এ কাজের জন্য জরুরি প্রয়োজন আগামী একনেক সভায় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর বিভাগের ৫ জেলা পদযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৯ অক্টোবর উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিলসহ গণসমাবেশ এবং ১৬ অক্টোবর তিস্তা নদী বেষ্টিত ১০টি জেলার নদীর তীরবর্তী ১১টি স্থানে একযোগে মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হবে। এতেও যদি সরকার দাবি না মানে তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টা তিস্তা নদীর ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন। সেই আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা, নদী আন্দোলন কর্মীসহ তিস্তাপাড়ের লক্ষাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক হয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিস্তা রেলসেতু এলাকায় গণশুনানি করে। সম্প্রতি পানিসম্পদ উপদেষ্টা বলেছেন, ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ বছর মেয়াদি তিস্তা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে (৫ বছর) বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৭’শ কোটি টাকা। বাকী ২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা সরকারী কোষাগার থেকে দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামুসজ্জামান সামু, জিয়া মঞ্চের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরীসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা।