মো. তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৪৮ এএম
চরখালী খালটি এইভাবে দখল করে পানি চলাচল বন্ধ করে মাছ শিকার করছে প্রভাবশালী এক ব্যাক্তি। প্রবা ফটো
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকায় পরিবেশ ও জনসাধারণের স্বার্থ উপেক্ষা করে খালের মাঝখানে টিনের বেড়া দিয়ে পানি এবং নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সাবেক সেনাসদস্য মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার প্রভাব খাটিয়ে এই বেড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, ভাণ্ডারিয়ার হেতালিয়া খালের স্লুইজগেট থেকে পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে চরখালী প্রবহমান খালের মাঝখানে অবৈধভাবে গড়া ও টিন দিয়ে খাল বন্ধ করে স্থানীয় প্রভাশালী মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার মাছ শিকার করছেন। যার ফলে চরখালী প্রবহমান খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। খালের দুই তীরের মানুষজন জলপথে চলাচলের সুযোগ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এতে খালে কচুরিপানা আটকে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে খালে পানি বাঁধাগ্রস্ত হয়ে নাব্য কমে খালটি দিন দিন ভরাট হওয়ার পথে। সেই সঙ্গে খালে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে নাজেহাল করছেন অভিযুক্ত প্রভাবশালী। তিনি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব কাজ করে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ফলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহসিন বলেন, খাল আটকে মাছ শিকার বে-আইনি। প্রবহমান খাল আটকে মাছ শিকার করলে একদিন খাল নাব্য হারাবে। কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যাবে। দেশী প্রজাতির মাছের প্রজননসহ নানা সংকট দেখা দেবে।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।