মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৬ পিএম
ফাইল ফটো
রংপুরে বিচারিক কার্যক্রমে চলছে ভয়াবহ মামলাজট। দীর্ঘসূত্রতার কারণে বছরের পর বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ২৪ হাজারের বেশি মামলা। বিচারক স্বল্পতা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ জট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নতুন বিচারক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। অন্যথায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে সাধারণ মানুষ, প্রশ্নবিদ্ধ হবে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা।
রংপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আওতাধীন আমলী আদালত ও বিচার আদালতে মাদক মামলা, নারী ও শিশু মামলা, এনআই অ্যাক্ট মামলা, যৌতুক নিরোধ মামলা, শ্রম মামলা, মোটরযান মামলা, সড়ক পরিবহন মামলা, ফৌজদারি বিধি মামলা, দ্রুত বিচার মামলাসহ বিভিন্ন মামলার বিচারকার্য চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে আমলী আদালত ও বিচার আদালতে মোট মামলা ছিল ৫২ হাজার ২৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১ হাজার ৯৯২টি, অন্য আদালতে বদলি হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪১টি, বিচারাধীন রয়েছে ২৩ হাজার ৬৯২টি, পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে ৭৮৯টি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা স্থগিত রয়েছে দুটি।
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আমলী আদালত ও বিচার আদালতে মোট মামলা রয়েছে ৩০ হাজার ৯০৪টি। তিন মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৮০৫টি, অন্য আদালতে বদলি হয়েছে ৪ হাজার ১৭৫টি, বিচারাধীন ২৩ হাজার ৯৪৩টি, পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন ৯০২টি এবং ৪টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
অপরদিকে রংপুর জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে রংপুরের ৮টি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে ৬৮৬টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জনকে। ২০২৪ সালে জেলা পুলিশের ৫৩৯টি মামলা করেছে পুলিশ। এতে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ জনকে।
জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে থানা পুলিশ যেসব মামলা করেছে, সেগুলো বিচারাধীন। পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, চার্জশিট প্রদানসহ আইনি কার্যাবলি বাস্তবায়ন করছে।
সরকারি কৌঁসুলি আফতাব হোসেন বলেন, রাষ্ট্র বাদী এমন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে মামলার সমন জারি, চার্জশিট দেওয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনসহ কিছু কিছু মামলার রায় পর্যায়ে যেতে তিন-চার বছর সময় লেগে যায়।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারপ্রার্থীরা আদালতপাড়ায় বছরের পর বছর ঘুরে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে বিচারকের স্বল্পতা দূর করতে হবে পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আদালত নির্দেশিত সময়ের মধ্যে মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে মামলার সংখ্যাও কমে যাবে, বিচারপ্রার্থীদেরও হয়রানি হতে হবে না।