× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাপে কাটা রোগী এখনও কম আসছে হাসপাতালে

রাজু আহমেদ, রাজশাহী

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:১৪ পিএম

সাপে কাটা রোগী এখনও কম আসছে হাসপাতালে

বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় সাপ তার থাকার জায়গা হারিয়েছে। বর্ষার পানি নামতে শুরু করলে সাপ নতুন আশ্রয়স্থলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠে। এই সময় রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে সাপে কাটা মানুষের সংখ্যাও বাড়ে। শুধু তাই নয়, আশঙ্কাজনকভাবে সাপ মেরে ফেলাও বেড়ে যায়। 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৯০০ সাপে কামড়ানো মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। অন্যদিকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বিষহীন সাপ ৭২১ জনকে কামড় দিয়েছে ।

চিকিৎসকরা বলছেন, সাপে কামড়ানোর পর মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে আসছেন। কম সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে আসায় সাপের কামড়ে মৃত্যু বাড়ছে। কিন্তু সাপে কামড়ানোর ৪০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে আনা গেলে মৃত্যু কমত।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছর সাপে কাটা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালমুখী রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে অবস্থা খুব খারাপ হলেই তারা হাসপাতালে আসছেন।

সাপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। সাপের উপদ্রুব বাড়ার বিশেষ কারণ এটি। বৃষ্টির দিনে কমন ক্রেইটে বা বিষাক্ত কালাচ সাপ গর্ত থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে আসে। তারা মানুষের বসতঘরে গিয়ে দংশন করে। এ ছাড়া পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় রাসেল ভাইপার সাপের আবাস নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে ভেসে লোকালয় এমনকি চরের বসতিতে ঢুকে কামড় দিচ্ছে। পাশাপাশি মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বনজঙ্গল উজাড় করে সাপের আবাস নষ্ট করছে। উপায় না পেয়ে সাপ লোকালয়ে আসছে বলে মনে করেন তিনি।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, মৃত সাপ বা ছবি নিয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসা দেওয়া সহজ। কিন্তু জীবিত সাপ নিয়ে এলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। তিনি বলেন, ৮৬ শতাংশ মানুষ সাপে কামড়ানোর পর প্রথমে যান ওঝার কাছে। তবে তিন শতাংশ মানুষ সরাসরি আসেন হাসপাতালে। কামড়ের ৪০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এলে বেশি নিরাপদ। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পরে এলে আইসিইউতে নিতে হয়, মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডা. আজিজুল আরও জানান, ৫০ শতাংশ রাসেল ভাইপার দংশন করলেও মানুষের শরীরে বিষ ঢালে না। কোবরার ক্ষেত্রে এটি ৩০ শতাংশ। কিন্তু কমন ক্রেইটে শতভাগ বিষ ঢালে। অ্যান্টিভেনম একদম বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ফলে দ্রুত হাসপাতালে আনা উচিত।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর সাপে কামড়ানো ৫৭ জনকে আইসিইউ প্রয়োজন হয়েছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হয়েছে। আইসিইউতে রাখার পরও রাসেল ভাইপারের দংশনে সাতজনের মধ্যে মারা গেছেন ছয়জন। তাদের প্রত্যেককে শেষ সময়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গত বছর আইসিইউতে ভর্তিদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল ২৪ শতাংশ। চলতি বছর এ পর্যন্ত এ হার ১৪। এবার বসতঘরে কমন ক্রেইটের বিষক্রিয়ায় ৭৬ আক্রান্তদের ৭১ জনই সুস্থ হয়েছেন দ্রুত হাসপাতালে আনায়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা