বগুড়ায় কঙ্গো নাগরিক ভিটো বলি
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫৬ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২৭ এএম
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিক ভিটো বলি বোঙ্গেঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে বগুড়ায় অবস্থান করছেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে তাকে জিম্মি করে রেখেছেন। অন্যদিকে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ভিটো আসলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে থেকে গেছেন। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ১ নভেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বগুড়ায় আসেন ভিটো বলি। অনলাইনে পরিচিত গোকুল এলাকার শৌখিন পাখি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান পলাশের বাড়িতে ওঠেন। এক মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাগজপত্র হারানোর অভিযোগ ওঠে।
ভিটোর দাবি, ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে পলাশ তার পাসপোর্ট ও ভিসার নথি কেড়ে নেন। তখন থেকেই তিনি বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ভিটো আরও অভিযোগ করেন, মুক্তি পেতে তাকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে। স্ত্রী গ্লোরিয়া এনটাঙ্গা মুটোম্বো কঙ্গোয় বাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠালেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। দেশে ফেরার জন্য পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে পলাশের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার বক্তব্য, বিদেশ থেকে পাখি আমদানির নামে ভিটো একাধিকবার টাকা নিয়েছেন। প্রথম দফায় ১০ হাজার ডলারে ২০০ পাখি আনার চুক্তি হলেও সরবরাহ করা হয় মাত্র ৭৫টি। দ্বিতীয় দফায় ১৫ হাজার ডলার পাঠানোর পর আসে মাত্র ৯০টি পাখি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ১২ হাজার ডলার নেওয়ার পর একটিও পাখি পাঠাননি ভিটো।
পলাশের অভিযোগ, কয়েক বছরে সাড়ে তিন লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে তার। এখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরার কৌশল হিসেবে ভিটো নিজেকে জিম্মি দাবি করছেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভিটো। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পাখি রপ্তানি ব্যবসার সূত্র ধরে অনলাইনে পলাশের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বাংলাদেশে এসে ব্যবসা শুরু করার পরই ঝামেলা শুরু হয়। এরপর থেকে তিনি জিম্মি অবস্থায় আছেন।
বিষয়টি জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান পলাশ বলেন, এক মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় ২০২২ সালের নভেম্বরে ভিটো বাংলাদেশে আসেন। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে আমার বাড়িতে থেকে ব্যবসা শুরু করেন। বিদেশ থেকে পাখি আনার চুক্তি হয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো সরবরাহ করেননি। বরং কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
এ ঘটনায় করণীয় জানতে জেলা পুলিশ বিশেষ শাখায় (এসবি) বার্তা পাঠিয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর কেউ বলছেন, ভিটো প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কেউ আবার মনে করছেন, তিনি নিজেই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। আইনের চোখে এখন তিনি অবৈধভাবে থাকা একজন বিদেশি, যার কাগজপত্রের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ভিটো বলি ২০২২ সাল থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আছেন। তার পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তিনি কোনো বৈধ ব্যবসায়িক পাওনার প্রমাণও দেখাতে পারেননি। বরং কয়েকজন ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। তবে টাকার লেনদেনের জেরে তার পাসপোর্ট নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, তাকে জিম্মি করে আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। জিম্মি হলে থানায় এসে নিজে অভিযোগ করতে পারতেন না। বরং অবৈধভাবে তিনি এখানে অবস্থান করছেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।