শাহিনুর সুজন, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম
একদিকে ধূপকাঠির ধোঁয়ায় মন্দির চত্বর মুখরিত, অন্যদিকে আতরের সুবাসে শান্ত মসজিদ প্রাঙ্গণÑ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকরা গ্রামে এমনই এক চিত্র প্রতিদিনের। একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদ ও মন্দিরে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে।
ধর্ম ভিন্ন হলেও ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গ্রামের মানুষ গড়ে তুলেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারঘাটের বড়াল নদের পাড়ের পশ্চিম ঝিকরা গ্রামে প্রায় দুই দশক আগে পশ্চিম ঝিকরা কর্মকারপাড়া কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে নিয়মিত কালীপূজার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসবসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়। এর পাশেই ২০২১ সালে গড়ে তোলা হয় পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদ। একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদ ও মন্দিরে গত পাঁচ বছরে কখনোই কোনো দ্বন্দ্ব বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। বরং নামাজের সময় নীরবতা পালন করেন পূজারিরা, আর পূজার সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়ান মুসল্লিরা। গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করেন, ধর্ম ভিন্ন হলেও ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখলে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ অটুট থাকে। পশ্চিম ঝিকরার এই মসজিদ-মন্দির তাই সবার কাছে হয়ে উঠেছে সৌহার্দের প্রতীক।
মসজিদ কমিটির নেতারা বলেন, মন্দিরের পাশে মসজিদ গড়ে ওঠার পরেও কখনও কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। বরং উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের উৎসবে দাওয়াত গ্রহণ করেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদের সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি যেমন মসজিদের সভাপতি, তেমনি মন্দিরের সভাপতির সঙ্গেও আমার গভীর বন্ধুত্ব। আমরা আলাদা ধর্মের হলেও একই আঙিনায় ধর্ম পালন করি। আবার আড্ডা দিই, পারিবারিক অনুষ্ঠানেও একে অপরের অতিথি হয়ে যাই।
অন্যদিকে পশ্চিম ঝিকরা কর্মকারপাড়া কালী মন্দিরের সভাপতি অপু কর্মকার বলেন, আমরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্গোৎসব পালন করছি। পাশাপাশি কালীপূজাসহ সব অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পাশে মসজিদ থাকলেও কখনও কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি। আমরা সবাই আনন্দের সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করছি।
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে সুন্দরভাবে উদযাপনে অন্য ধর্মের মানুষ যে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। আসলে উৎসব কখনও একা করা যায় না, এটি সবার অংশগ্রহণেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।