× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফটিকছড়িতে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ডলু রাবারবাগান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মিত সেমিপাকা ভবনে চলছে পাঠদান।

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ডলু রাবারবাগান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মিত সেমিপাকা ভবনে চলছে পাঠদান।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ডলু রাবারবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে। বিদ্যালয়ের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি বর্তমানে এতটাই জরাজীর্ণ যে, ছাদ, দেয়াল ও পিলারে ফাটল ধরেছে, কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে এসেছে।

প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। এরপরও শ্রেণীকক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছিল নিম্নমানের সামগ্রী, যার ফলে মাত্র ৩০ বছরেই ভবনটি পরিণত হয়েছে অতি ঝুঁকিপূর্ণে। ২০২৩ সালে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত নির্মিত হয়নি কোনো নতুন ভবন। ওই বছর একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে পাঠদান চালানো হলেও সেটিও বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী। অথচ ৬টি শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শূন্য। এতে করে শিক্ষার মানও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে কাঞ্চননগর রাবারবাগান এলাকায় ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে কমিউনিটি স্কুল, পরে ২০০৯ সালে রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানে ৬ শিক্ষকের মধ্যে নিয়োজিত আছেন ৪ জন। তারমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ১০ বছর ধরে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশঘেঁষা হলেও নেই সীমানা প্রাচীর। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলার সুযোগ দিচ্ছেন না শিক্ষকরা। অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার, ওয়াশব্লক না থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ রয়েছে আসবাবপত্রের ঘাটতি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও নগণ্য।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত, ৩য় শ্রেণির ফারজানা আক্তার জানায়, ‘বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। প্রতিদিন ভয়ে ক্লাস করতে হয়।’

অভিভাবক রসুল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন এমন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানকে পড়তে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ভবন সংস্কার করা হচ্ছে না। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবেদা খানম বলেন, ‘ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নিরাপদ নয়। কক্ষ সংকটে একটি কক্ষেই শ্রেণী ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে টিনশেডের ঘরটিতে পানি পড়ে। নতুন ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে কোনো সুরাহা হয়নি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাছান মুরাদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠাবো।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন ভগ্নদশায় রয়েছে বলে আমরা অবগত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা