ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:২৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানাধীন আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ শমিলা রানী (৪৫) ও তার মেয়ে শাপলা রানী (১৮)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছন ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার।
নিহত শমিলা রানী ওই গ্রামের জগদীশ চন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, শমিলা রানী ও তার মেয়ে শাপলার বাড়িটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াত কম। সোমবার রাতে এক এনজিও কর্মী কিস্তি সংগ্রহ করতে গেলে ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের দরজা ও জানালা ভেতর থেকে বন্ধ। পুলিশ দরজা ভাঙতে গেলে টিনের দেয়ালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। পরে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়।
এক পর্যায়ে ঘরের টিন কেটে দেখা যায় খাটের পাশে শমিলা রানীর লাশ এবং তার পাশেই মেয়ের লাশ পড়ে আছে। দরজার সামনে একটি বিদ্যুতের তার বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের সুরক্ষার জন্য তারা দরজার সামনে বিদ্যুতের তার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত ওই বিদ্যুতের তারেই তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মা ও মেয়ের মৃত্যু ২-৩ দিন আগে হয়েছে। মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় রয়েছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।