আজহারুল ইসলাম বুলবুল, দুর্গাপুর (রাজশাহী)
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৪ এএম
প্রবা ফটো
পঞ্জিকা অনুযায়ী, শীত আসতে আরও মাস দুয়েক বাকি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের আগাম কর্মযজ্ঞ। ভোরের কুয়াশা আর হালকা হিমেল হাওয়ার আভাস পেতেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছ পরিষ্কার, কোপ কাটা এবং মাটির হাঁড়ি বাঁধার কাজে। এ কর্মযজ্ঞ চলছে রাজশাহীর দুর্গাপুরসহ আশপাশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের ঝোপঝাড়, রাস্তার ধার ও বসতবাড়ির আঙিনায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছগুলোতে।
স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলায় একসময় লক্ষাধিক খেজুর গাছ ছিল। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এ বছর মৌসুম শুরুর আগেই গাছিরা রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। এরই মধ্যে গাছিরা আগাম বাজার ধরতে প্রতিদিনের মতো ভোরে গাছ থেকে রস নামিয়ে নিচ্ছেন। সেই রস জাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়; যা বাজারে বিক্রি করে ভালো আয় করছেন অনেকে।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার রৈপাড়া গ্রামের গাছি হুমায়ুন জানান, শীত পুরোপুরি নামার আগেই আমরা রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছি। বাজারে আগাম গুড়ের দামও বেশি থাকে, তাই এ সময়টা আমাদের জন্য লাভজনক।
ঝালুকা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের গাছি আনারুল ইসলাম বলেন, আমার ১১২টি খেজুর গাছ রয়েছে। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই গাছের রস সংগ্রহ করা হয়। শীতের প্রায় চার মাস রস সংগ্রহ করা যায়। এ সময়ে বাজারে রস ও গুড়ের বাড়তি চাহিদা থাকে। রস থেকে বিভিন্ন রকমের পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরির পর বাজারে বিক্রি করে আমরা সংসার চালাই।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৬২৫টি। মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৯ কেজি করে গুড় পাওয়া যায়। গত বছর এ উপজেলায় প্রায় ৪৫০ টন গুড়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গাছিদের আগাম প্রস্তুতিতে গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, খেজুর গাছে রোগবালাই কম হয়। তবু এ সময় গাছের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। শীত মৌসুমে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় সবার কাছেই বেশ সমাদৃত। এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি অংশ। তাই গাছের পরিচর্যার পাশাপাশি আমরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে গাছিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।