চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৩:০৫ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের চালককে মারধরের জেরে ফের দূরপাল্লার বাস বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে দেশ ট্রাভেলসের চালক মিলনকে মারধর করে শ্রমিকরা।
এর আগে বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার জেরে প্রায় ৯০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়।
অল্প কিছুক্ষণের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য রুটে বাসে যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও তা ফের বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা কোচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, সোমবার বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওর্নাস অ্যাসোসিয়শেনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বাস শ্রমিক নেতাদের পাশাপাশি বাস-ট্রাক অর্নাস অ্যাসোসিয়শেনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মালিক-শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ কেটে গেলে বিকাল ৪টা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কয়েকটি বাস ছেড়েও যায়। কিন্তু রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে দেশ ট্রাভেলসের এক চালককে মারধর করে রাজশাহীর শ্রমিকরা। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাস রাজশাহীর ওপর দিয়ে যেতে দিচ্ছে না।
ওই শ্রমিককে মারধরের বিষয়ে তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিকরা সব দাবি দাওয়া মেনে নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাজশাহীর বাস শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও খোরাকি বাড়ানো হলেও তারা এসব মানতে নারাজ। এখন তাদের দাবি একটি বাসের ৩০টি আসন পূর্ণ হলে ১টি এবং ৪০ আসন পূর্ণ হলে দুটি টিকিটের দাম নেবেন। এই দাবি না মানলে রাজশাহীর শ্রমিকরা বাস চলাচল করতে দেবেন না। তাই দূরপাল্লার বাস ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের নিয়ে রাজশাহী থেকে ঘুরে এসেছেন। অনেক যাত্রী রাজশাহীতে নেমে বিকল্প গাড়িতে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাস মালিক পক্ষ দূরপাল্লার যাত্রী পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য গন্তব্যের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। তবে গতকাল বিকালে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় বাস চলাচল শুরু হয়।