সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
জীবন মানেই বেঁচে থাকার এক যুদ্ধ। জীবনের পড়ন্ত সময়ে এসেও বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টা চালায় মানুষ। ঠিক তেমনি বেঁচে থাকার তাগিদে কিশোরগঞ্জের প্রতিবন্ধী খুরশিদ মাঝির সংগ্রাম যেন এক অন্যন্য উদাহরণ। দুই পা অচল নিয়ে ৩ দশক ধরে নদীর বুক চিরে মানুষ পারাপার করে জীবনের ঘাটি টেনে চলেছেন খুরশিদ মাঝি। এ নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী খুরশিদ মাঝির পাশে দাঁড়ালেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া মৃধা বাড়ি এলাকার মাঝি খুরশিদ। বাড়ির পাশের নদীতে খেয়া পারাপার করে যা উপার্জন করেন তাই দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তার জীবন। খুরশিদ মাঝিকে নতুন দোকান ও মালামাল দিয়ে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম।
এর আগে গত ০৯ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশে ‘হার না মানা খুরশিদ মাঝি’ শিরোনামে পত্রিকায় ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। খুরশিদ মাঝির দুই পা কাজ না করলেও কখনো কারও সাহায্যের হাত বাড়াননি। নিজস্ব সামর্থ্য ও অদম্য মনোবল নিয়ে সংসারের ভার টানছেন। সারাদিন নদীর ঘাটে যাত্রীদের নৌকা পারাপারে সাহায্য করেন, নৌকার দড়ি টানেন। নদীর ঢেউ, বাতাস আর পুরনো নৌকাটি যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বর্তমানে উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে নদীপথে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেলেও খুরশিদ মাঝি নদীর ঘাট ছাড়েননি। কারণ এটিই তার জীবিকা এবং আত্মসম্মান। তবে বয়সের ভার, আয় অনিশ্চিত ও পারিবারিক কষ্ট নিয়ে দিন কাটছে তার। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সংবাদ পৌঁছে যায় কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলামের কানে। সংবাদ পেয়ে ছুটে যান তিনি, দেখা করেন খুরশিদ মাঝির সঙ্গে। কাছ থেকে দেখেন তার জীবনযুদ্ধ, অসহায় জীবনের চিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হন ইউএনও মাঈদুল ইসলাম। তিনি কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেন- খুরশিদ মাঝিকে একটি দোকানঘর করে দেয়া হবে, এবং দোকান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় মালামালও দেয়া হবে।
এলাকার বাসিন্দা ছাইদুর রহমান নাঈম বলেন, ছোট থেকেই আমরা দেখে আসছি কষ্ট করে স্ত্রীকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন খুরশিদ মাঝি। খুরশিদ মাঝির জীবন যুদ্ধ সত্যি একটি অনুপ্রেরণা। অভাব অনটনে দমে না গিয়ে জীবীকার তাগিদে তিনি বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রহ করে চলেছেন। এমনকি চলাফেরায় অক্ষম হবার পরেও তিনি কারো কাছে হাত না পেতে অদম্য মনোবল নিয়েও লড়ে যাচ্ছেন নিজ উপার্জনে। তাকে সহায়তা দিয়ে প্রশাসনের এগিয়ে আসাটা সঠিক দায়িত্ববোধের পরিচয়।
খুরশিদ মাঝির চোখের জলে ভাসে নতুন জীবনের আশা। তিনি বলেন, কেউ আমারে সহায়তা করবো এইডা কহনো চিন্তা করি নাই। আমি সরকারের এই সহায়তার কথা শুইন্যা দীর্ঘ অনেক বছর পরে মনডা খুশি অইলো। আমার দুইডা পা কাজ না করলেও, আমি কখনো হার মানিছি না। নদীর ঘাট আমার জীবনের একটি অংশ, আর এখন উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় নতুন একটা স্বপ্ন দেখতে পাইতাছি। এবার দোকানের মাধ্যমে আমি নিজের পরিবারের পাশে আরও ভালোভাবে দাঁড়াতে পারব।
মাইদুল ইসলাম বলেন, খুরশিদ মাঝির জীবন যুদ্ধ নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশে একটি সংবাদ আমার নজরে আসে। আজ আমি এসে খোঁজখবর নিলাম। খুরশিদ মাঝির সাথে কথা বলে তাকে ঘাটের সাথে একটি দোকান তৈরি করে মালামালসহ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারেন।