দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫১ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৩ পিএম
খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও চলছে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের দাবিতে জুম্ম ছাত্র জনতার ডাকা তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তবে এরই মধ্যে অবরোধ আংশিক শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে জুম্ম ছাত্র জনতা।
তবে জুম্ম ছাত্র জনতা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও শহীদদের মরদেহের সৎকারের সুবিধার্থে ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকবে। তবে অন্যান্য সড়কে অবরোধ যথারীতি বলবৎ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে একটি চিকিৎসক দল আসবে। তাদের আগমনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য সর্বস্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে দীঘিনালা সেনা জোন সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

দীঘিনালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দীঘিনালার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল ওমর ফারুক জানান, পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার পাশাপাশি কোন ধরনের সহিংসতায় না জড়িয়ে তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরুন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বদা প্রস্তুত।
অবরোধের কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে, অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
এর আগে গতকাল অবরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় খাগড়াছড়ি সদর থেকে গুইমারা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে ৩জন নিহত, মেজরসহ ১৩ সেনা সদস্য ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।