কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:০৯ পিএম
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যজীবন যখন চরম চাপে, তখন সরকারের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমই তাদের একমাত্র সহায়। কিন্তু বরাদ্দ সংকটে সেই সুবিধাটিও সবার হাতে পৌঁছাচ্ছে না।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার মুন্সিপাড়া হাটখোলা পয়েন্টে ওএমএস আটার দোকানে দেখা যায় নারী ক্রেতাদের লম্বা সারি। ফজরের নামাজের পর থেকেই অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সকাল ৮টা নাগাদ লাইনের দৈর্ঘ্য ২-৩ শতাধিক ক্রেতাতে গিয়ে দাঁড়ায়।
জানা যায়, নিয়ম মেনে সুশৃঙ্খলভাবেই বিক্রি চললেও বরাদ্দ সীমিত থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন। নিয়ম অনুযায়ী মাথাপিছু সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ সামাল দিতে সেখানে অনেককেই ২ থেকে আড়াই কেজি করে দেওয়া হচ্ছে।
লাইনে দাঁড়ানো সাতুটিয়া গ্রামের রহিমা নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ভোর ৬টায় এসে দাঁড়াইছি। আমার সামনে থাকা কয়েকজন পেয়ে গেছে, কিন্তু একটু পরেই বলে দিল আটা শেষ। এত কষ্ট করেও কিছু পেলাম না।’
আরেকজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সকালের নাস্তা না খেয়েই লাইনে দাঁড়াই। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে আসতে হয়। যদি বরাদ্দ বেশি থাকতো তাহলে এভাবে ফিরতে হতো না।’
ডিলার জিল্লুর রহমান জনি জানান, ‘আমরা নিয়ম মেনেই বিক্রি করি। কিন্তু যে পরিমাণ ক্রেতা আসে সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। বরাদ্দ বাড়লে হয়তো সবাইকে দেওয়া সম্ভব হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময় ওএমএসই নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা, কিন্তু বরাদ্দ কম থাকায় সেই আশা প্রতিদিনই ভেঙে পড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনিছুর রহমান খান জানান, বরাদ্দ কম থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বরাদ্দ বাড়লে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী আমরা সরবরাহ করতে পারব।