খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:৩৫ পিএম
উপকূলীয় অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সহনশীলতা বাড়াতে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এনহ্যান্সিং রেজিলিয়েন্স অব কোস্টাল কমিউনিটিজ (ইআরসিসি) প্রকল্প।
জাগ্রত যুব সংঘের (জেজেএস) বাস্তবায়নে, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতা এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (কোয়িকা)-অর্থায়নে গত বছরের ১ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রকল্প চলবে আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় সরাসরি ৪,১৪৯টি পরিবার (১৮,৬৭১ জন মানুষ) এবং পরোক্ষভাবে আরও ৩৭,২০৩ জন মানুষ উপকৃত হবে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরেজমিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেন। পরে দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সিএসএস আভা সেন্টারে আলোচনা সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সামনে জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গড়ার কৌশল ও অ্যাডভোকেসি বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি রিস্ক এসেসমেন্ট (সিআরএ) এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণ ও টিকে থাকার ব্যাপারে পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ইআরসিসি প্রকল্পের সহায়তায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনুষ্ঠিত সিআরএ রিভিউ মিটিং ও অ্যাডভোকেসি সভার পর বাজেট বরাদ্দ ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছেÑ যা অংশগ্রহণকারীদের মতে একটি প্রশংসনীয় সাফল্য।
যদিও প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু আলোচনায় উঠে আসে প্রকল্প এলাকার বাইরের ইউনিয়নগুলোয় এখনও সচেতনতার ঘাটতি, দক্ষ জনবল সংকট, সমন্বয় ও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এ বাধা অতিক্রমে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়ানো, জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ আল-এহসান ও ক্যামেরাম্যান আমির হোসেন চিসতি, প্রতিদিনের বাংলাদেশের খুলনা অফিসের চিফ মাশরুর মুর্শেদ, মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা মস্তোফা জামাল ও ক্যামেরাম্যান শাহাজালাল মোল্লা মিলন, দৈনিক কালেরকণ্ঠের ব্যুরো চিফ এইচ এম আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪-এর ব্যুরো-চিফ মুহা. সামছুজ্জামান এবং ক্যামেরাম্যান রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আমার দেশের খুলনা ব্যুরো-চিফ এহতেশামুল হক শাওন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি মাকসুদুর রহমান, নয়াদিগন্তের বিশেষ প্রতিনিধি এরশাদ আলী।
দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বিশেষ প্রতিনিধি আওয়াল শেখ, নিউ নেশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহ, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো-চিফ আব্দুর রাজ্জাক রানা, বিবিএস প্রতিনিধি মো. নূরুজ্জামান, খুলনা গেজেটের বার্তা প্রধান মো. মিলন, দাকোপ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সহসভাপতি কে এম আজগর হোসেন ছাব্বির।
এছাড়া কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর প্রগ্রাম ম্যানেজার মশিউর রহমান, কমিউনিকেশন অ্যাডভাইজার আফ্রোজা শারমিন, জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেন, সিনিয়র প্রগাম ডিরেক্টর এম এম চিশতি এবং প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মামুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আরও প্রস্তুত ও সহনশীল হয়ে উঠবে।