উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম
খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার ও আশপাশের এলাকায় গত শনিবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এতে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলার সদর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সহিংসতায় আতঙ্কিত হয়ে অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে। আন্দোলনের নামে সহিংসতা ছড়িয়ে নির্বাচন বাধাগ্রস্তের ষড়যন্ত্র চলছে। নতুন ইস্যু তৈরি করে পাহাড়কে অস্থির করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, পরিস্থিতি এখনও থমথমে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডের পাঠিয়েছেন আদালত। এরপর থেকেই পাহাড়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পরপরই জুম্ম ছাত্র–জনতার ব্যানারে টানা অবরোধ চলতে থাকে। এতে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের শনিবার রাতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর ফেরত আনা হয়। পরে অনেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’–এর ব্যানারে ডাকা সড়ক অবরোধ চলছে। রবিবার সকাল থেকে শহরে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ রয়েছে শহরের বেশির ভাগ দোকানপাট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত শনিবার পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় এবং গুইমারা উপজেলায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। পাহাড়িদের অভিযোগ, ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই তাদের ওপর আবার হামলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে চার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ঘোষণা করেন তারা। দাবিগুলো হল- ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতার’ সমাবেশে হামলাকারীদের বিচার, আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া এবং সমাবেশে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচার নিশ্চিত করা।