মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫১ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৯ পিএম
অভিযুক্ত কসাই আ. রহিম।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরেরহাট বাজারের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আ. রহিম নামে স্থানীয় এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হলে অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এমন ঘটনায় দুপুরে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মাংস ক্রেতা নাজমিন বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গেনারপাড়া গ্রামের নাজমিন বেগম শুকুরেরহাটের কসাই আ. রহিমের দোকান থেকে ২ কেজি গরুর মাংস ক্রয় করে নিয়ে আসেন। অতঃপর তিনি মাংসগুলো সুন্দর করে রান্না করে পরিবারের সকলে মিলে খান। এমতাবস্থায় সেই মাংস খেয়ে রাতে পরিবারের সকলে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন স্থানীয়দের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী এক ডাক্তারের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে জানতে পারেন গেনার পাড়া গ্রামের মোতালেব মিয়ার ৮ মাস ১৫ দিন বয়সের অন্তঃসত্ত্বা গাভীকে ১টি বড় ভিমরুলের চাকের বিষাক্ত ভিমরুল কামড় দেয় এবং গরুটি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এরপর কসাই আ. রহিম ওই অসুস্থ গরুটি ক্রয় করে রাতে গোপন স্থানে জবাই করে মাংসগুলো সকালে বিক্রি করতে থাকে। ফলে মাংসের বিষাক্ত তেজোষ্ক্রিয়তায় সকলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
গরুর মালিক মোতালেব মিয়া বলেন, আমার ৮ মাস ১৫ দিনের অন্তঃসত্ত্বা গরুটি বাড়ির পাশে বেঁধে রেখেছিলাম। ওখানে কাঁঠাল গাছে যে ভিমরুলের বাসা ছিল তা জানতাম না। এলাকার কিছু বখাটে ছেলে, ভিমরুলের বাসায় ঢিল ছুড়লে, ভিমরুলের বাসা ভেঙে যায়। এ সময় সব ভিমরুল গরুটিকে আক্রমণ করে। পরবর্তী সময়ে গরুটি অসুস্থ হলে স্থানীয় শুকুরেরহাট বাজারে মাংস বিক্রিতা ও ইউপি সদস্য আ. রহিমের কাছে ২৯ হাজার ৫০০ শত টাকায় বিক্রি করি। গরুটি কোথায় জবাই করছে, আমি তা জানি না।
ভুক্তভোগী নাজমিন বেগম বলেন, আ. রহিম কসাই রাতের আঁধারে অসুস্থ গরু জবাই করে সকালে মাংসগুলো বিক্রি করেছে। সেই মাংসগুলো রান্না করে খেয়ে এখন অসুস্থতায় ভুগছি। এই কথা কসাইকে বলতে গেলে কসাই আ. রহিম প্রতি মুহূর্তেই বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছে।
কসাই আ. রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আফতাব হোসেন বলেন, অসুস্থ গরুর মাংসের বিষয়ে হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে নিতে কেউ আসেননি, এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুলতামিস বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি আগে জানতাম না। মাত্রই জানতে পারলাম। অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।