সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:২৯ পিএম
ব্যাটারিচালিত রিকশা ইস্যুতে উত্তপ্ত সিলেট। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, পরিবহন সংগঠনগুলোর হুঁশিয়ারি এবং রিকশা মালিক-শ্রমিকদের পাল্টা কর্মসূচিতে নগরীতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবিতে নগরবাসীকে নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাদের নিয়ে উপস্থিত হন। মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন এবং হাতে হাতে রিকশা বন্ধের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে সিলেটের মানুষকে নিয়ে রাজপথে নামেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ একমত পোষণ করেছেন হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের জন্য। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটছে। হকারদের কারণে ফুটপাতে হাঁটার জায়গা নেই। নগরবাসীর চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।’
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার যোগদানের পর বলেছেন সিলেটে কোনো অবৈধ যানবাহন চলতে পারবে না। ফুটপাতমুক্ত রাস্তার ব্যাপারেও তিনি বলেছেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকও এ ব্যাপারে আন্তরিক। তারা সিলেটের বিভিন্ন মহল, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মতামত নিয়েছেন। আমরা সিলেটের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ দলমতনির্বিশেষে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা চাই, হকার ও অবৈধ যানবাহনের সকল সিন্ডিকেট ভাঙতে। সকালে তাড়িয়ে দিলে বিকালে আবার চলে আসেন হকাররা এটা আর হতে দেওয়া হবে না। লালদীঘির পাড়ের কাজ আমি ঘুরে দেখেছি, ২-৩টি রাস্তা প্রশস্ত করা হচ্ছে। শিগগির হকারদের সেখানে নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা সরকারি গাড়ি, প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজি ভেঙেছে এবং যারা তাদের সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা আজকে এই পদযাত্রার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
সাবেক মেয়র বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আমরা কোনো ধরনের মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশ করব নাÑ যাতে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটে। যারা করবেÑ বুঝতে হবে তারা সুযোগ সন্ধানী। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্নের জন্য অতীতের মতো নগরবাসী কড়া নজরদারি রাখতে হবে।’ এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শহরকে বাঁচানোর জন্য প্রতিটি এলাকায়, পাড়া-মহল্লায় মুরব্বী ও তরুণদের নিয়ে কমিটি গঠন করবেন এসব দুর্বৃত্তদের দমন করতে।’
তিনি বলেন, ‘এই সিলেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে দেওয়া হবে না। দুর্গাপূজার পরে সিলেটের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে আমরা একটি কাফেলা তৈরি করে আবার মাঠে নামবো।’
এর আগে, গতকাল শনিবার বিকালে নগরীর চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার এলাকায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশ নেন আরিফুল হক চৌধুরী। অভিযান চলাকালে তিনি ঘোষণা দেন, নগরবাসীকে সাথে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে গণ-পদযাত্রা শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নগরীতে শুরু হওয়া পুলিশের অভিযানে বিপুলসংখ্যক অবৈধ যানবাহন আটক ও চার্জিং পয়েন্ট ধ্বংস হওয়ার পর থেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিকরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিলেও পথে পথে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। কোর্ট পয়েন্ট ও মেন্দিবাগে হামলার ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর ও সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পালসহ ৪ জন। ইতোমধ্যে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার ও শনিবার পরিবহন খাতের নেতারা একাধিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে রিকশা শ্রমিকদের হামলার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসাথে ৭ অক্টোবরের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ৮ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের হুমকিও দিয়েছেন তারা। তাদের অবস্থান স্পষ্ট নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেওয়া হবে না।
একপক্ষে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিকরা রাজপথ ছাড়তে নারাজ, অন্যপক্ষে প্রশাসন, পরিবহন সংগঠন এবং নগরবাসীর বড় একটি অংশও এই যানবাহনের বিরোধিতায় একাট্টা। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মাঠে নামেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।