× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্গাপূজা

ঢাক-ঢোল বাঁশির সুরে মুখর শতবর্ষী বাদকের হাট

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঢাকের হাটে দক্ষতা প্রদর্শন করছে বাদক দল। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঢাকের হাটে দক্ষতা প্রদর্শন করছে বাদক দল। প্রবা ফটো

প্রতিবছর দুর্গাপূজা শুরুর আগ মুহূর্তে বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত সুরের মূর্ছনার সঙ্গে শত শত মানুষের পদচারণায় জমে ওঠে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। জনশ্রুতি রয়েছে, দেশের একমাত্র বাদকের এ হাট ৪০০ বছরের অধিক পুরনো, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাটে আসা বাদকরা নেচে-গেয়ে, যন্ত্র বাজিয়ে আকৃষ্ট করেন ক্রেতাদের। পূজার আয়োজকরাও এ হাট থেকে যাচাই-বাছাই করে নিয়ে যান তাদের পছন্দের বাদকদের। এ বছরের দুর্গাপূজাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শত শত ঢাক-ঢোল বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর হয়ে উঠেছে হাট। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হাট থাকবে আজ রবিবার রাত পর্যন্ত।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, মূলত এ হাটে কোনো যন্ত্র বেচাকেনা হয় না। বাদকরা তাদের যন্ত্রসহ হাটে আসেন। পূজার আয়োজকরা তাদের পছন্দের যন্ত্র ভাড়া করেন বাদকসহ। দরদাম শেষে বাদকদের সঙ্গে চুক্তি করে বায়নার টাকা পরিশোধ করে গন্তব্যে ফিরে যান। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মণ্ডপে বাদ্যযন্ত্র বাজান বাদকরা। তারপর ফিরে যান নিজেদের বাড়িতে।

গতকাল দুপুরে ঢাকের হাটে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ বাদক এসেছেন। তারা একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢাক, ঢোল, বাঁশিসহ বাহারি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে পূজা আয়োজকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কারণ কোন দলের কত মূল্য হবে, তা নির্ধারণ হয় তাদের মুনশিয়ানা দেখে। একসঙ্গে নানা বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত সুরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। রীতিমতো উৎসবের আমেজ বয়ে যায়।

আর কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, গাজীপুর, হবিগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলের মণ্ডপের পূজা আয়োজক কমিটিও এসেছে বাদকদের নিয়ে যেতে। তবে তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তার ঘটায় অনেকে এখন অনেকেই মোবাইলেই ঢাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তি করেন।

মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা খোকা সাহা বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে এই হাটে আসছি দলবল নিয়ে। আমাদের ১৫ জনের দল। ঢাক-ঢোল বাঁশিসহ রয়েছে অনেক বাদ্যযন্ত্র। ৬০ হাজার চাচ্ছি বায়না হতে। ৪৫ হাজার দাম হাঁকানো হচ্ছে। আর কিছু হলে চলে যাব।’

গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে সাতজনের বাদক দল নিয়ে আসা রাজিব সরকার বলেন, ঢোল, বাঁশি, কাসাইসহ বিভিন্ন বাজনা নিয়ে এসেছি। পূজায় সবাই আনন্দ করেন। কিন্তু আমাদের চলে আসতে হয় পরিবার ছেড়ে। বংশপরম্পরায় এটি হয়ে আসছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ হাটে আসছি। এর আগে বাপ-দাদারা আসতেন।

ঢাকার বিক্রমপুর থেকে ঢাকের বায়না করতে আসা গোবিন্দ দেবনাথ বলেন, ‘প্রতিবছরই ঢাকের হাটে আসা হয়। শুধু এখানেই পছন্দমতো ঢাকি পাওয়া যায়। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকিরা আসেন। তাদের মনমুগ্ধকর বাজনা শুনে পছন্দমতো কাউকে বেছে নেব।’

লোকমুখে শোনা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তার প্রাসাদে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। কটিয়াদীর চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। একবার রাজা নবরঙ্গ রায় সেরা ঢাকিদের সন্ধানে ঢাকার তৎকালীন বিক্রমপুর পরগণার (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ) বিভিন্ন স্থানে আমন্ত্রণ জানিয়ে বার্তা পাঠান। তার বার্তা পেয়ে সেই সময় নৌপথে অসংখ্য ঢাকি দল পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাটে সমবেত হন। রাজা নিজে দাঁড়িয়ে একের পর এক সবার বাজনা শুনে সেরা দলটিকে বেছে নেন এবং পুরস্কৃত করেন। এভাবে রাজা প্রতিবছরই ঢাকিদের বেছে নিতে শুরু করেন। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় মসূয়া ইউনিয়নের যাত্রাঘাটে শুরু হয় ঢাকের হাট। সময়ের পরিবর্তনে তা বর্তমানে আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে কটিয়াদীর পুরাতন বাজার এলাকায় আনা হয়েছে হাটটি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা