কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২২ এএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৬ পিএম
পাহাড়, নদী ও বালিয়াড়ির অবিচ্ছিন্ন সৈকতের অপূর্ব মিলনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের কক্সবাজারকে বলা হয়ে থাকে দেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। যেখানে যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ কাটাতে প্রতিদিন ভিড় জমান হাজারো পর্যটক। কিন্তু এই সমুদ্র শহরে সমুদ্র সৈকত, স্নান, হিমছড়ি-ইনানী সৈকতে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া কি এমন সুবিধা রয়েছে?
এমন প্রশ্নের মারপ্যাঁচে ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতা, পর্যটক সহ সাধারণ মানুষ বলছে, এখানে সমুদ্র সৈকত ছাড়া পর্যটকদের বিনোদনের জন্য গড়ে ওঠেনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কোনো পার্ক, নেই অ্যামিউজমেন্ট জোন কিংবা বৈদেশিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থা। এতে বহুমুখি অপার সম্ভাবনা থাকা স্বত্তেও পরিকল্পনা আর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে থমকে আছে পর্যটনের বিকাশ।
যদিও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশেও সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় শীতের আগে-পরে কক্সবাজার পর্যটনের আনাগোনা হিসেবে ধরা হতে পর্যটন মৌসুম। কালের পরিক্রমায় এই ধারণা বদলে গেছে। এখন পুরো বছর জুড়েই বিশ্বের দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটারের অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত দেখতে কম-বেশি পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিনে পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত থাকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পট সমূহ।
সেপ্টেম্বরের শেষ শুক্রবার, ছুটির দিনও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে তার দৃশ্য দেখা মিলেছে। সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা মিলে বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে নোনাজল, সবখানে মানুষ আর মানুষ। শুধু সুগন্ধা পয়েন্ট নয়; সৈকতের লাবনী, শৈবাল, কলাতলী সব পয়েন্টে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ভ্রমণে এসে এসব মানুষ মেতেছেন নোনাজলে সমুদ্রস্নান, জেড স্কী, বিচ বাইক ও ঘোড়ার পিঠে। একই সঙ্গে প্রিয় মুহুর্তগুলো বন্দি করছেন ক্যামেরার ফ্রেমে।”
সিলেট থেকে আসা পর্যটক আমিনুল ইসলাম বলেন, “সাগর উত্তাল আছে। তারপরও খুব মজা হচ্ছে। কারণ বন্ধুরা সবাই মিলে এসেছি, খুবই উপভোগ করছি সাগর। কিন্তু সাগর ছাড়া এখানে বিনোদনের কোন ব্যবস্থা না থাকার আক্ষেপ তার।
তিনি বলেন, সাগর, ঝর্ণা, কেনা-কাটা ছাড়া সন্ধ্যার পর রাত্রিকালীন বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক সৈয়দ রেজা বলেন, “কক্সবাজার ভ্রমণে আসলে সাগর, পাহাড়, কাঁকড়ার বিচরণ ও নৌকার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সন্ধ্যার পর হোটেলে রুম বন্ধি ছাড়া তেমন কোন ব্যবস্থা নেই।
এসব পর্যটকদের বেশি ভাগের আক্ষেপ রয়েছে। তারা বলছেন, যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ কাটাতেই মূলত সাগর আর সৈকতের নির্মল পরিবেশের ছোঁয়া পেতে কক্সবাজার ছুটে আসা। কিন্তু বারবার ঘুরতে এসে একই দৃশ্য, একই বিনোদন আর একই উদযাপন। বলা যায়- অনেকটা একগুঁয়েমি উপভোগ। কক্সবাজার ঘুরতে এসে বিনোদনের বহুমাত্রিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে অভিমত পর্যটকদের।
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইজের জিএম ইয়াকুব আলী ও সী-ক্রুজ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর সহ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টাই বিনোদন উপভোগের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা, উদাসীনতা ও উদ্যোগের অভাবে পর্যটনের বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া এই শিল্পের বিকাশেও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের উদ্যোগও প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণের ভেস্তে যাচ্ছে। এতে পর্যটন শিল্পের বিকাশ থমকে আছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা হাতছানি দিলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে সেই তিমিরেই পড়ে আছে। বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধু সমুদ্র নয়, আধুনিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো জরুরি বলছেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কক্সবাজারের পর্যটন সৈকত ও সাগর কেন্দ্রিক। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটনকে বহুমাত্রিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিকমানের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম ) মো. শহীদুল আলম জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র রূপ দিতে সরকারের নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি আগত পর্যটকদের ভ্রমণকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
এদিকে, এমন আছে-নেই পরিস্থিতির মধ্যে কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। অন্যান্য বছর পর্যটন মেলা সহ নানা আয়োজন থাকলেও এবার তার কিছুই নেই। সকালে একটা র্যালিসহ আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবন্ধ দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রের বিশ্ব পর্যটন দিবস।
অপরদিকে সেন্টমার্টিনে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পর্যটন মৌসুম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন পর্যটকরা।