শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৪৬ পিএম
মাদারীপুরের শিবচরে চাঞ্চল্যকর রানু বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার হত্যার ঘটনায় কাজী রাসেল মাহমুদ ওরফে সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্প। গত বৃহস্পতিবার বিকালে শিবচর উপজেলার পাচ্চর এলাকার চরকান্দি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আসামি কাজী রাসেল মাহমুদ ঢাকার ইব্রাহিমপুর থানার পশ্চিম শেওড়া পাড়ার মৃত কাজী কেরামত আলীর ছেলে।
বর্তমানে তিনি শিবচরের যাদুয়রচর এলাকায় বসবাস করেন। তিনি আগে নিহত রানু বেগমের বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার, পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেনের সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গত ৯ মাস আগে রাসেল মাহমুদ ওরফে সবুজ বৃদ্ধা রানু বেগমের ঘরের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর একবার রানু বেগমের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটলে ভাড়াটিয়া রাসেলকে সন্দেহ করতে শুরু করেন তিনি। ৪ মাস ভাড়া থাকার পর একপর্যায়ে এ নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় উভয়ের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে রাসেল মাহমুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বৃদ্ধার রান্নাঘরে গোপনে অবস্থান করেন রাসেল। রাত ১১টার দিকে ঘরে ঢুকে হাতে ও গলায় আঘাত করে হত্যা করে রানু বেগমকে। পরে ঘরে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, কানের দুল, রাইস কুকার, কাপড়-চোপড়সহ কিছু নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যান তিন।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দেন হত্যায় জড়িত রাসেল। এছাড়া চুরি করা কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে বিক্রিও করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের কাঁচিকাটা এলাকায় নিজ ঘর থেকে রানু বেগম নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রানু বেগম ওই এলাকার মৃত সাদেক হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। তার এক ছেলে চাকরির সুবাধে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকত। ঘটনার দিন সকালে ফোনে তার মাকে না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানালে তারা এসে বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ দেখেন এবং জানালা দিয়ে রানু বেগমের রক্তাক্ত নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পু্লিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে খোকন হাওলাদার শিবচর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।