আমীর চারু বাবলু, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কুমার নদে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। এই বাইচ ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে সারা দিন চলে গ্রামীণ মেলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদের দুই পাড়ে ভিড় জমায় বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার হাজারো মানুষ।
এ উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামটিতে মেয়েদের জামাই ও শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ঈদ বা পূজা-পার্বণে না এলেও এদিন মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকার মানুষ মেতে ওঠেন আনন্দ উৎসবে।
এবারের বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত ২০টি নৌকা অংশ নেয়। এছাড়া ট্রলার ও ছোটবড় বিভিন্ন ধরনের কমপক্ষে এক হাজারের মতো নৌকায় চড়ে মানুষ এ উৎসব উপভোগ করে।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা পাশের চতুল ইউনিয়নের বাইখীর গ্রামের মানোয়ার খান বলেন, ছোটকাল থেকে নৌকাবাইচ ও মেলায় আসি। গেণ্ডারি কুশর (আখ) জিলাপি, আমিত্তি এ মেলার জনপ্রিয় খাবার। এবারও মেয়েদের নিয়ে এসেছি। বাইচ দেখে মেলা থেকে কেনাকাটা করছি। মেলায় এবার চল্লিশ হাজারের মতো মানুষের সমাগম ঘটেছে।
কথা হয় গৃহবধূ শিউলী বেগমের সঙ্গে। তেলজুড়ি গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় বাবার বাড়ি জামাই ও ছেলেকে নিয়ে নৌকাবাইচ ও মেলা উপলক্ষে এক দিন আগে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, জন্মের পর থেকে বাবার সঙ্গে মেলায় আসি। প্রতি বছরের মতো এবারও কুমার নদে নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা দেখতে এসেছি। সঙ্গে স্বামী ও ছেলে আছে। ট্রলারে চরে বাইচ দেখলাম। মেলায় কেনাকাটা করলাম। বেশ আনন্দ পেয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল শরীফ বলেন, নৌকাবাইচ ও মেলায় কমপক্ষে দশ গ্রামের মেয়েদের জামাইরা বউ, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মেতে ওঠেন। এটা অত্র অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহীতে রূপ নিয়েছে। এবার মেলায় প্রায় ছোটবড় ২০টি বাইচের নৌকা ছাড়াও ট্রলার ও বিভিন্ন ধরনের এক হাজারের মতো নৌকায় চড়ে মানুষ এ উৎসব উপভোগ করে।
মিষ্টি ব্যবসায়ী তৈয়ব মোল্লা বলেন, কয়েক যুগ ধরে এ নৌকাবাইচ ও মেলায় মিষ্টি বিক্রি করতে আসি। এবারও দোকান দিয়েছি। দোকানে জিলাপি, রসগোল্লা, সন্দেশ, চমচমসহ বিভিন্ন মিষ্টি রয়েছে। তবে আমিত্তি বেচাকেনাও বেশি হয়।
তেলজুড়ী নৌকাবাইচ উদযাপন কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রইসুল ইসলাম পলাশ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আরডিডি গ্রুপের কর্ণধার ও বিএনপি নেতা আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার। বাইচে বিজয়ী তিনটি নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। এ সময় ডেভিড শিকদার বলেন, আমাদের এলাকার এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। এজন্য যা করার তা করব।