রহিম শুভ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২৬ এএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৪ এএম
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক রসিক রায় জিউ মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। প্রবা ফটো
ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক রসিক রায় জিউ মন্দিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৬ বছর পর আবারও পূজার ঘণ্টাধ্বনি বেজে উঠল। মন্দিরে ভক্তদের পদচারণায় শারদীয় দুর্গোৎসব ফিরে এসেছে নতুন সাজে, নতুন আনন্দে। আর এরই মাঝে মূর্তি তৈরির ও মণ্ডপ সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
ঠাকুরগাঁও পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রমতে, এবার জেলায় মোট ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে। এর মধ্যে ৩৬৬টিতে ইতোমধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, বাকিগুলোতেও দ্রুত স্থাপন করা প্রস্তুতি চলছে।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ইসকনপন্থী একটি পক্ষ ও অপর একটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় মন্দিরের সেবায়েত ফুলবাবু নিহত হন। এরপর থেকেই দুর্গাপূজার সময় মন্দির এলাকায় জারি ছিল প্রশাসনের ১৪৪ ধারা।
কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই অচলাবস্থা ভেঙে এ বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে অনুমতি দিয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজা আয়োজনের।
স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী খগেন চন্দ্র বলেন, ১৬ বছর আমরা অন্য মন্দিরে পূজা করতাম। কষ্ট ছিল আমরা নিজেদের মন্দিরেই পূজা করতে পারছি না। এবার পূজার অনুমতিতে আমরা অনেক খুশি।
পূজামণ্ডপের কাজে সহযোগিতা করা ২০ বছর বয়সি অনিক রায় বলেন, এই মন্দিরে সর্বশেষ যখন পূজা হয়, তখন আমি খুবই ছোট। যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকে শুধু বাপ-দাদার কাছে গল্প শুনেছি, এখানে অনেক বড় পূজার আয়োজন হতো। কখনও দেখার সুযোগ হয়নি। এবার সেই ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে।
প্রতিবেশী সুজলা রানী বলেন, আমার বিয়ের পর থেকে আমি এখানে কখনও পূজা দেখিনি। এবার নিজে অংশ নেব, খুব ভালো লাগছে। সান্তনা রানী বলেন, এবার যেন পূজার আনন্দ কিছুটা বেশি। নতুন কাপড় কেনাকাটা করেছি। এবার অনেক মজা হবে।
ঠাকুরগাঁও রসিক রায় জিউ মন্দিরের সেবায়েত অপু সরকার বলেন, প্রায় ১৬ বছর পরে এখানে পূজা হচ্ছে। তাই সবার মাঝে উচ্ছ্বাস কিছুটা বেশি।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রসিক রায় জিউ মন্দিরে এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা এক মহোৎসব। প্রশাসনের সহযোগিতা ও দুপক্ষের সমঝোতায় যে উৎসবের দ্বার খুলেছে, তা শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তুলবে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, দুপক্ষ সম্মত হওয়ায় এখানে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে সেখানে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। তাদের মধ্যে যেটুকু সমস্যা আছে আশা করছি সেটাও পূজার পরে সমাধান হয়ে যাবে।