শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:০০ পিএম
গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা মোকসেদ আলীকে (৫৮) অপহরণের পর ৯০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে চার ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
মোকসেদ আলী ইসলামী ব্যাংক শ্রীপুর উপজেলার মাওনা শাখার জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ এবং ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি)। তিনি চান্দনা চৌরাস্তার পালের মাঠ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা মোকসেদ আলী মুঠোফোনে জানান, অফিস ছুটির পর বাসায় যাওয়ার জন্য উড়াল সেতুর উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুজন যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরও কোনো যানবাহন আসছিল না। এসময় সাদা একটি প্রাইভেটকার তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওই প্রাইভেটকারে আগে থেকেই চালকের সঙ্গে একজন বসা ছিল। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যাত্রী যাওয়ার জন্য প্রাইভেটকার চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা বলছিল। সালনার যাত্রী ৮০ টাকা এবং অপর যাত্রী ১০০ টাকায় ভাড়া নির্ধারণ করে। যেহেতু প্রাইভেটকার চালক যাত্রী উঠাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে তিনিও গাজীপুর যাওয়ার জন্য ভাড়া ঠিক করে প্রাইভেটকারে উঠে বসেন। তিনি পেছনের সিটে মাঝখানে বসেন এবং অপর দুই যাত্রী তার দুই পাশে বসেন। উড়াল সেতুর ওপর দিয়ে প্রাইভেটকারটি গাজীপুরের দিকে রওনা দেয়। এসময় চালক পেছনের দুই যাত্রীকে ‘বস বস’ বলে কী যেন বলতে থাকে। গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার পার হওয়ার পর তার সঙ্গে থাকা দুই যাত্রী তার (মোকসেদ আলী) চোখ এবং হাত-পা বেঁধে ফেলেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা অপহরণ চক্রের সদস্য। অপহরণকারীরা প্রাইভেটকারের ভেতরে তাকে মারতে থাকেন এবং বাসায় কে কে আছে জিজ্ঞাসা করে। বাসায় স্ত্রী আছে বলে জানান তিনি। পরে তার মোবাইল দিয়ে স্ত্রীর কাছে ফোন করে ২০ মিনিট সময় দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। অপহরণকারীরা তার স্ত্রীকে একটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা পাঠাতে বলেন। না পাঠালে আমার হাত-পা কেটে ফেলবে এবং হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে দেবে বলে হুমকি দেয়। পরে তিনি (স্ত্রী) প্রতিবেশি এক ব্যক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠান। পরে তারা বাকি টাকার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকলে আরও ৩০ হাজার টাকা একই বিকাশ নাম্বারে পাঠায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ময়মনসিংহের ভালুকার সিডস্টোর থেকে পশ্চিম দিকে নিয়ে তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল, সঙ্গে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা রেখে জঙ্গলে ফেলে যায়। পরে তিনি নিজেই চোখ এবং হাত-পায়ের বাঁধন খুলে মহাসড়কের পূর্বপাশে আসেন। পরে এক অটোচালককে বলে সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসে গাজীপুরের বাসায় পৌঁছান।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, এরকম ঘটনা আমার জানা নেই বা আমাকে কেউ অবগত করেনি।
শ্রীপুর থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, আমরা ঘটনার রাতেই মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ড. আ ক ম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন, এরকম কোনো ঘটনা আমার জানা নেই।
গাজীপুরের এসপি ড. চৌধুরী যাবের সাদেক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৯ জুলাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বার বাড়ি থেকে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের বাবুলের ছেলে শাহজাহান বাদশাকে একই কায়দায় অপহরণ করা হয়। তাকে সাত ঘণ্টা আটকে রেখে তার এটিএম বুথ থেকে ছয় লাখ ৪৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
এর আগে ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর উত্তর পাশের পল্লী বিদ্যুৎ মোড় থেকে চিকিৎসক আমিনুর রহমানকেও (৪০) একই কায়দায় অপহরণ করা হয়। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ভোরে রাজেন্দ্রপুর সড়কের পাশে তাকে ফেলে দেয়।