কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। ইতোমধ্যে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে, চলছে রঙ তুলির কাজ। এ বছর রঙ, স্বর্ণের গহনা, নখ, চুলের দাম বাড়ায় কারিগররা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হবে।
দেবী আসবে বলে হাতি (গজে) প্রস্তুত করে অনুরক্ত ভক্তকুল অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে। নিয়মের রথ তার আগমনী গান গাইছে।
সাতক্ষীরায় শারদীয় দুর্গোৎসবের সাজ সাজ রব। জেলার ৮টি উপজেলায় এবার ৫৯১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে। আয়োজক ও প্রতিমা ভাস্কররা শেষ প্রস্ততির ব্যস্ততায় দিন পার করছেন। প্রতিমা বানানোর ধুমে কাঁচের প্রতিমা বানানোও হচ্ছে আশাশুনি উপজেলার ঘুঘুমারি সুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে। এ ছাড়া কলারোয়ায় পাটের তৈরি প্রতিমাসহ জেলাজুড়ে নানা আঙ্গিকে বানানো হচ্ছে প্রতিমা।
আগামী রবিবার থেকে দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। দেবী দুর্গা এবার চলে যাবেন (দোলায়) অর্থাৎ পালকিতে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর সাতক্ষীরায় সাতটি উপজেলায় মোট ৫৯১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। তার মধ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভায় ১৮টিসহ সদর উপজেলায় ১০৬টি, তালা উপজেলায় ১৯৫টি, কলারোয়ায় ৪৪টি, শ্যামনগর উপজেলায় ৬৯টি, আশাশুনি উপজেলায় ১০৩টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৪৯টি ও দেবহাটা উপজেলায় ২১টি। জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের সংখ্যা ৫৫টি। তার মধ্যে শ্যামনগরে ২০টি, কালিগঞ্জ ২টি, দেবহাটায় ৪টি, আশাশুনিতে ২৩টি, কলারোয়ায় ৬টি রয়েছে বলে জানান পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।
আশাশুনির ঘুঘুমারি সুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সানা জানান, এ বছর প্রথম ভারত থেকে ভাস্কর শিল্পী এনে কাঁচের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরের সামনে কৈলাস পর্বতের মতো প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে, যেটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানান তিনি।
কলারোয়ার মুরারীকাটি পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার পাল জানান, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে চারজন ভাস্কর শিল্পী টানা তিন মাস পরিশ্রম করে প্রতিমাটি নির্মাণ করছেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা সারা দেশে সাড়া ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা ও উৎসাহ থেকে এবার পাট দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। সোনালি আঁশ পাট দিয়ে গড়া প্রতিমা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা চলার সময় নিরাপত্তার চাদরে প্রতিটা মন্দির ঢাকা থাকবে। প্রতিটা পূজা মন্দিরে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য সাদা পোশাকে এবং জরুরি সেবার হটলাইন চালু থাকবে। নাশকতাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।