অভয়নগর (যশোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:৪৭ পিএম
অভয়নগরে মাছের ঘেরে চুরি করতে যাওয়ার অভিযোগে নসিব তালুকদার (৫০) নামে এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর নিহতের মরদেহ স্থানীয় নলামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে যায় দূর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নসিব তালুকদার বাগেরহাট জেলার চিতলমারি থানার সাবুখালি গ্রামের হামিদ তালুকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন।
এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন ঘের মালিক গোবিন্দ বিশ্বাস (৫৫), তার অপর দুই ভাই প্রদীপ বিশ্বাস (৬০) ও তারাপদ বিশ্বাস (৫০) এবং উত্তম দত্ত (৫৫)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নিহত নসিব তালুকদার বৃহস্পতিবার ভোরে নলামারা গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাসের ঘেরে ট্যাবলেট দিয়ে মাছ চুরি করতে যায়। এসময় ঘের মালিকের লোক টের পেয়ে তাকে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ স্থানীয় নলামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের শরীরের মুখ, বুক ও গলার দুই পাশে ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ রয়েছে।
নিহত নসিব তালুকদারের ছেলে বাপ্পী তালুকদার বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, নিহত নসিব তালুকদার একজন পেশাদার চোর ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাছের ঘের থেকে মাছ চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও মাছ চুরি করতে গিয়ে সে কয়েকবার ধরা পড়ে।
অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা আমতলা ক্যাম্প ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সৈয়দ বকতিয়ার আলী জানান, নলামারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে নসিব তালুকদার নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।