সালেহীন সোয়াদ, মধুখালী (ফরিদপুর)
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৩৩ পিএম
রেলওয়েতে চাকরিকে তিনি নিয়েছেন জনগণের সেবা হিসেবে। মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন বাঁধাহীনভাবে। কোনো যাত্রীর যেকোনো বিপদের সংবাদ শোনা মাত্রই তার উপকারে ছুটে যান। বলছি ফরিদপুরের মধুখালী রেল স্টেশন মাস্টার মোঃ কাওসার মাহমুদের কথা। কর্মজীবনে তিনি অনেক যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ব্যাগ খুঁজে পৌঁছে দিয়েছেন প্রকৃত মালিকদের কাছে।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরুর করেন তিনি। চাকরি জীবনে তিনি মানুষের ব্যতিক্রমী এক সমস্যা সমাধানের অন্যতম নির্ভর ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। স্টেশন অথবা রেলগাড়িতে কারো কোনো ব্যাগ অথবা মূল্যবান জিনিস হারানোর কথা শুনলেই এগিয়ে যান তিনি। দীর্ঘ ০৯ বছরের চাকরির জীবনে অর্ধেকেররও বেশি সময় পার করেছেন ট্রেন কন্ট্রোলার হিসাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী স্টেশন মাস্টার মোঃ কাওসার মাহমুদ বলেন, অনেক যাত্রীরা তাদের হারানো জিনিস পত্র উদ্ধারের আশায় আমার কাছে এসে বলেন। অনেক দামি জিনিস হারানোর চাইতে মোবাইল হারানোর কষ্ট অনেক বেশি। আমি চেষ্টা করি নিজের সাধ্যমত উপকার করতে।
২০১৬ সাল থেকে প্রায় তিনি প্রায় ২০ টি মোবাইল ফোন, ০১ টি ল্যাপটপ, অসংখ্য ব্যাগ, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন। বিগত ৯ বছরে শুধু ব্যাগই নয়, ছোট হারানো বাচ্চাদেরও উদ্ধার করে গ্রাহককে ফিরিয়ে দিয়েছেন এই রেল সদস্য।
মোঃ শহিদুল ইসলাম নামের গোপালগঞ্জেরর এক যাত্রীর কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি জানান, ২০২৪ সনের ১লা ডিসেম্বর রেলের মধ্যে থেকে আমার রেডমি ১০ মডেলের মোবাইলটি হারিয়ে যায়। দুই দিন পর জানতে পারি ফোনটি মধুখালী স্টেশন মাস্টারের হেফাজতে রয়েছে। সেখান থেকে আমি ফোনটি সংগ্রহ করি।
রিনা সুলতানা নামের আরেক যাত্রী জানান, গত ২০২৫ সনের ১১ মে তিনি টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে করে যাচ্ছিলেন। পথে তার কিছু অর্থসহ একটি ব্যাগ হারিয়ে যায়। পাশের যাত্রী যিনি ছিলেন স্টেশন মস্টারের সহায়তায় তার সন্ধান করে ব্যাগ ও অর্থ ফেরত পাই।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী রেলওয়ের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিএন্ডসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কাওসার মাহমুদের এ বিষয়টি একটি মানবিক কাজ। তিনি যাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে উপকার করে থাকেন।