মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রী ও এক যুবককে বিদ্যুতের পিলারে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ি দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর পৌর সদরের দড়ি-চারিয়া কোণা এলাকায় বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে বেঁধে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে সুইটি বেগম ও ওয়াহিদ মিয়াকে পেটাচ্ছেন একই এলাকার হাবিবুর রহমান (হাবি ডাকাত)। এ সময় চারপাশে ভিড় করে এলাকার নারী-পুরুষ। হাবিবুর রহমান প্রথমে একটি কঞ্চি দিয়ে দুইজনকে পেটানোর পর পাশ থেকে আরেকজন আরও তিনটি কঞ্চি এগিয়ে দেন। সেগুলো একসঙ্গে করে পেটাতে থাকেন হাবিবুর। এ সময় সুইটি ও ওয়াহিদকে চিৎকার করতে শোনা যায়। এর মধ্যে কেউ কেউ মারতে নিষেধ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কটিয়াদি পৌর সদরের দড়ি-চারিয়া কোণা এলাকার প্রবাসী রতন মিয়ার সঙ্গে প্রায় এক যুগ আগে বিয়ে হয় একই এলাকার সুইটি বেগমের। বিয়ের ৪ বছর পর রতন মিয়া সৌদি আরবে চলে যান। এর কয়েক বছর পর একই উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার সঙ্গে সুইটি বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সুইটি বেগম ও ওয়াহিদকে স্থানীয়রা সুইটির স্বামীর বাড়ি থেকে একসঙ্গে আটক করে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির সামনে বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে বেঁধে কুঞ্চি দিয়ে পেটাতে থাকেন হাবিবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় একজন মোবাইরে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
নির্যাতনের শিকার সুইটি বেগম পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১২ বছর আগে রতন মিয়ার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের ৪ বছর পর আমার স্বামী বিদেশ চলে যান। আমার দুটি সন্তান আছে। ওয়াহিদ মিয়া আমার শাশুড়িকে ধর্মের মা ডাকে। প্রায় সময় আমাদের বাড়িতে আসে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে আমাদের বাড়িতে আসলে জিজ্ঞেস করি কেন এসেছেন? তিনি (ওয়াহিদ) বলেন একটা সমস্যায় পড়েছি, তাই এসেছি। পরে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি। পাশের রুমে আমার শাশুড়ি থাকেন। ঘরের অন্য একটি রুমে ওয়াহিদ মিয়া ছিল। রাত আনুমানিক ৩টার সময় প্রতিবেশী কজন মিলে ওয়াহিদ মিয়াকে ধরে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় আমাকেও ধরে নিয়ে আসে। দুইজন দুই রুমে ছিলাম। আমাকে অপবাদ দিয়ে সকালে মারধর করা হয়েছে। আমি থানায় একটি মামলা করেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি তরিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে মারার অধিকার কোনো ব্যক্তির নেই। এই ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় ভুক্তভোগী সুইটি বেগম মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা।