প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৬ পিএম
দেশের তিন জেলায় সংসদীয় আসন বহাল ও পুনঃবিন্যাসের প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন কর্মসূচী পালন সহ হাইকোর্টের রুল জারি হয়েছে। বাগেরহাট, ফরিদপুর ও বরগুনা প্রতিবেদকের পাঠানো খবর-
বাগেরহাট: বাগেরহাটে চারটি আসনই বহালের দাবিতে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে চলছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বিকালে থেকে এই গণস্বাক্ষর কার্যক্রম শুরু করে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো–কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম বলেন, আমরা চার আসন বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর নেওয়া শুরু করেছি। স্বাক্ষর করার জন্য বাঁধাই করা বই তৈরি করা হয়েছে, যা প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায় পাঠানো হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাগেরহাটবাসীর একতাবদ্ধ দাবি স্পষ্ট হবে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের এই আসন বিন্যাস গণ মানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে বলে জানান সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা।
চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৩(কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)।
দীর্ঘদিন থেকে ৪টি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা: বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২(বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর): ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের (নগরকান্দা ও সালথা) সঙ্গে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চতুর্থ দফার তৃতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ভাঙ্গা কেএম কলেজের সামনে ‘অখণ্ড ভাঙ্গা উপজেলা রক্ষা কমিটি’-র ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা কলেজ সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দাবি জানান।
আমতলী (বরগুনা) : বরগুনা জেলার পূর্বের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন বরগুনার তিনটি সংসদীয় আসন ফিরিয়ে দেওয়া হবে না—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার অবকাশকালীন হাইকোর্টের যৌথ বেঞ্চের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ রুল জারি করেন।
রিটকারী ওমর আবদুল্লাহ শাহীন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বরগুনায় তিনটি স্বতন্ত্র আসন ছিল। কিন্তু ১/১১ সরকার আমলে তা কমিয়ে আনা হয়। এতে জেলার সাড়ে ১২ লাখ মানুষ জাতীয় সংসদে তাদের মৌলিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব হারিয়েছে। তাই অধিকার ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।