নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৩ পিএম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলী এলাকায় দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও শুরু হয়েছে আউস ও আমন ধানের চাষ। স্থানীয়দের উদ্যোগ ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ফলে প্রায় ১২৫ একর অনাবাদি জমি এখন আবাদযোগ্য হয়ে উঠেছে। ফলে দুই শতাধিক কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি, আবারও সোনালি ধানের ঘ্রাণে মুখরিত হয়েছে গ্রামাঞ্চল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিত্রা নদী থেকে স্লুইচগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি বিলে প্রবেশ করায় জমি অনাবাদি পড়ে ছিল। এ সময় শুধু বোরো ধান আবাদ হলেও আউস ও আমন চাষ বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি কালিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম মোর্শেদ শেখ কৃষকদের সংগঠিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুজ্জামান ও কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নদী থেকে লবণাক্ত পানি প্রবেশ বন্ধে ব্যবস্থা নেন। পাশাপাশি যশোরের অভয়নগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের উদ্যোগে আরও কয়েকটি স্লুইচগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এ অঞ্চলের জমিতে আবারও আউস ও আমন আবাদ শুরু করা সম্ভব হয়।
চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষক ইসরাইল শেখ তার ৫ একর জমিতে আউস ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ২০ বছর পর ধানের আবাদ শুরু করতে পেরে খুশি হয়েছি, ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষক আফজাল শেখ, কিবরিয়া মোল্যা, সুরত মোল্যা ও খাজা মজুমদার জানান, জমিতে সোনালি ধানের ঘ্রাণ ফিরেছে।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে নদী থেকে লবণাক্ত পানি প্রবেশ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। একারণে কয়েকটি স্লুইজ গেট বন্ধ করতে হয়েছে। জমিতে লবনাক্ত পানি প্রবেশ না করায় আউস ও আমন আবাদে কৃষকেরা সফল হয়েছেন। কৃষি উন্নয়নে আমাদের সার্বিক সহযোগীতা চলমান থাকবে।