মো. জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮ এএম
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেনের গ্রাফটিং পদ্ধতির টমেটো ক্ষেত। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
কৃষিতে উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও আত্মপ্রত্যয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গ্রীষ্মকালীন ও আগাম শীতকালীন টমেটো চাষ করে তিনি এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। মৌলভীবাজার থেকে আনা গ্রাফটিং পদ্ধতির চারা ও ভারতীয় আগাম শীতকালীন টমেটোর বীজ ব্যবহার করে তিনি যেমন সফলভাবে চাষ করছেন, তেমনি চারা উৎপাদন ও বিক্রয়ের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। বর্তমানে প্রায় ২০ জন শ্রমিক তার ফসলি মাঠে কাজ করছেন, আর তিনি নিজে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দুই মৌসুমের টমেটো চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে তার এই প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে প্রশাসনেরও।
কৃষক মোবারক হোসেন জেলার বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, ফসলি মাঠে প্রায় সাড়ে তিন একর করে প্রতিটি প্লট। বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জমি থেকে ফলন সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে ২৫ হাজার গাছ রয়েছে। গত জুন মাসের মাঝামাঝি রোপণ করা চারা থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফসল আহরণ শুরু হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি ২৫ কেজি ওজনের ৩৫-৪০ প্লাস্টিকের বাক্স বা ক্যারেট টমেটো সংগ্রহ করা হয়। প্রথম দিকে ১৪০-১৫০ টাকা প্রতি কেজি টমেটো বিক্রয় করা গেলেও ভারতীয় টমেটো আমদানি শুরু হওয়ায় মূল্য অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজিপ্রতি মূল্য পাওয়া যাচ্ছে।
একদিকে যখন গ্রীষ্মকালীন ফলন সংগ্রহ করা হচ্ছে অন্যদিকে আগাম শীতকালীন চারাও পরিচর্যা চলছে সমান তালে। সেখানেও বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার চারা নিবিড় পরিচর্যায় বড় হচ্ছে। আর এভাবেই স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য করতে বছরব্যাপী গ্রীষ্ম ও আগাম শীতকালীন টমেটো চাষে সারা দিনই টমেটোর দুটো মাঠ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মোবারক।
বাগানে ফল আহরণ করা শ্রমিকরা জানান, টমেটো নিমসারে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দেই বিক্রয়ের জন্য। এখানে কর্মরত প্রায় সবাইকে মোবারক মাসিক বেতনের পাশাপাশি বাসস্থানেরও সুযোগ করে দিয়েছেন।
মোবারক হোসেন জানান, ভারত থেকে আমদানি করে টমেটো বাজারজাতকরণ দেখেই টমেটো চাষে উদ্যোগী হন। প্রথমে মৌলভীবাজার জেলা থেকে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে করা গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা সংগ্রহ করেন। পরে মৌলভীবাজার থেকে গ্রাফটিংয়ে পারদর্শী ১০ জন কৃষককে নিজ এলাকায় নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেন। ২০২৪ সালে ভারত থেকে আগাম শীতকালীন টমেটোর বীজ এনে সেটার উৎপাদনও শুরু করেন। বর্তমানে কৃষক মোবারকের ফসলি মাঠে সর্বমোট ২০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তার বাগানে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এরই মাঝে একটি সোলার সেচ পাম্পের জন্য আবেদন করেছি। তা ছাড়া পলিনেট হাউজে চারা উৎপাদন ও স্থানীয়ভাবে বারো মাস টমেটো সংরক্ষণে একটি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণে সরকারের কাছে দাবি করছি।’
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. আফরিণা আক্তার জানান, ‘আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি।’