ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মারামারির আসামি ধরতে গিয়ে এলাকাবাসীর হামলার শিকার হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের একটি টিম। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টায় পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকার মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া, একই এলাকার সুকুর মিয়ার ছেলে লাদেন ও ফুল মিয়ার ছেলে সজল মিয়া।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) ও জগন্নাথপুরের বেপারীবাড়ীর যুবকদের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে মারামারি হয়। এ ঘটনায় বেপারীবাড়ীর দুইজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করা হয় আহতদের পক্ষ থেকে। মামলা হওয়ার পর বেপারী বাড়ির পক্ষ থেকে আহতদের ছবি ও আসামিদের ছবি দিয়ে পোস্টার বানিয়ে বিচার দাবি জানিয়ে এলাকায় দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটানো হয়। এ ঘটনার পর গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এদিকে মামলার আসামি ধরতে গিয়ে এলাকাবাসীর হামলার শিকার হোন যৌথবাহিনী। পরে নিজেদের রক্ষা করতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন যৌথবাহিনী।
অপরদিকে, জগন্নাথপুর এলাকাবাসীর দাবি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মধ্যে রাতে এলাকায় এসে নিরপরাধ মানুষকে মারধর করে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী তাদের বাধা প্রদান করেন। এ সময় যৌথবাহিনী তাদের ওপর গুলি ছুড়ে।
এ বিষয়ে আটককৃত আসামি নাঈমের স্ত্রী তারমিন বলেন, আমার স্বামী মামলার আসামি না। তবু আমার স্বামী ও আমার দেবরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। আমার মামা শ্বশুরকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে। এলাকায় ঝগড়া হয়েছে মামলাও হয়েছে কিন্তু আসামি না হয়েও আমার স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। আমাদের ঘরে ঢুকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মারধর করেছে।
এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব বলেন, মামলা হওয়ার পর আসামি ধরতে পুলিশ জগন্নাথপুর এলাকার অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আসামি নাঈম মিয়ার ঘর থেকে দুইটি কিরিজ ও দুইটি টেঁটা ও লাদেনের ঘর থেকে চারটি রাম দা উদ্ধার করে। এ সময় নাঈম, লাদেন ও সজল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় আনার সময় আসামি পক্ষের উত্তেজিত জনতা যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে ইট-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পরে যৌথবাহিনী ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।