মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:৩০ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুতের তারে আটকে চার দিনের ব্যবধানে বিরল প্রজাতির দুই লজ্জাবতী বানরের (Slow loris) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও সাইটুলা খামার প্রজেক্ট-২ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আরও একটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু হয়।
শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, সোমবার রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সাইটুলা খামার প্রজেক্ট-২ এলাকায় মূল বৈদ্যুতিক লাইনে একটি লজ্জাবতী বানর ঝুলে রয়েছে- স্থানীয়দের কাছে এমন খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও লিটন দেব দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তারা লজ্জাবতী বানরটিকে বিদ্যুতের তারে ঝুলন্ত দেখতে পান। তাৎক্ষণিক মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ফোনে ঘটনা জানালে তারা ১০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন। পরে লজ্জাবতী বানরটিকে বিদ্যুতের তার থেকে নামানো হলেও আগেই তার মৃত্যু ঘটে। এ লজ্জাবতী বানরটির গলায় একটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ যন্ত্র (ট্র্যাকিং ডিভাইস) লাগানো ছিল। পরবর্তীতে মৃত লজ্জাবতী বানরটিকে বন বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যাওয়া লজ্জাবতী বানটিকেও বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ কারণে প্রায়ই বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে প্রবেশ করছে। লোকালয়ে প্রাণীরা নানা দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। লজ্জাবতী বানর একটি বিরল প্রজাতির নিশাচর প্রাণী। গত চারদিনে বিদ্যুতের তারে আটকে দুটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু সত্যিই খুবই বেদনাদায়ক।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘সোমবার রাতে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যাওয়া লজ্জাবতী বানরটির গলায় একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগানো ছিল। গবেষক দলের পক্ষ থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এ ডিভাইসটি পরানো হয়েছিল। মৃত বানরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর এটিকে পরবর্তীতে মাটিচাপা দেওয়া হবে।