আহমদ মারুফ, সিলেট
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫১ এএম
সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট পয়েন্ট থেকে সোমবার তোলা। প্রবা ফটো
সিলেট নগরীতে গ্যাসচালিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ভ্রুক্ষেপহীনভাবে চলছে। নগরীতে গড়ে তোলা হয়েছে অটোরিকশা স্ট্যান্ড। নগরজুড়ে প্রায় অর্ধশত অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলোর একটিরও নেই বৈধতা। সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে হচ্ছে তীব্র যানজট। আবার স্ট্যান্ডের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগও আছে। ফলে যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। চালকরা জানেন না ট্রাফিক আইন। অনুমোদনহীন এই অটোরিকশায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।
নগরীর বন্দরবাজার, তালতলা, শাহী ঈদগাহ, নাইওরপুল, শাহজালাল ব্রিজ, ধোপাদিঘীরপার, টিলাগড়, কদমতলী, ওসমানী এয়ারপোর্ট এবং শহরতলীর কুমারগাঁও, শাহপরান ও চন্ডিপুলসহ ৫০টি এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।
নগরীতে বৈধ অটোরিকশার সমপরিমাণ রয়েছে অবৈধ অটোরিকশা। তার ওপর অর্ধশতাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড নগরের শৃঙ্খলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসন অবৈধ যানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। নগরীর অবৈধ যানকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এ সময়ের মধ্যে অবৈধ যান নগর থেকে না সরালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নগরীর আম্বরখানা থেকে চৌকিদিখি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কের দুই পাশজুড়েই বিচ্ছিন্নভাবে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক। ফলে ওসমানী বিমানবন্দরগামী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের আম্বরখানা এলাকায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সিলেটে সব মিলিয়ে বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ১৯ হাজার ২০০টি। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এগুলো চলছে। কিন্তু বাস্তবে নগরে চলছে ৫০-৬০ হাজার অটোরিকশা। শ্রমিক ও পুলিশের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এগুলো চলাচল করছে। এর জন্যই নগরে যানজট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
অবশেষে অবৈধ যান ও স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর হয়েছে। নগরীর অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) গতকাল সোমবার থেকে অভিযানে নেমেছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে নগরের পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এসএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল মেন্দিবাগ, নাইওরপুল, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, রিকাবীবাজার এবং পাঠানটুলা এলাকায় অভিযান চালানো হবে। এসব স্থানে সিনিয়র অফিসারদের তত্ত্বাবধানে অবৈধ যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত সপ্তাহে এসএমপি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, নগরীতে অটোরিকশা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও ভুয়া নাম্বার প্লেটযুক্ত যান চলাচল করতে পারবে না। অনুমোদিত স্ট্যান্ড ছাড়া অন্য কোথাও অটোরিকশা পার্কিং করা যাবে না। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে চলাচলকারী ৪০ হাজার গ্যাসচালিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে টোকেন দিয়ে চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেক অটোরিকশা রয়েছে অনটেস্ট। যেগুলো বিভিন্ন শোরুম থেকে কেনা হয়। অনটেস্ট নামে বছরে পর বছর এসব রিকশা সড়কে চলছে। এর বাইরে অর্ধেক গাড়িই হচ্ছে চোরাই। এর সংখ্যা হবে প্রায় ১৫ হাজার।
গ্যাসচালিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভুয়া অকশনের কাগজ ব্যবহার করে অবৈধভাবে অটোরিকশা চালানো হচ্ছে।
এর আগে গতকাল থেকে নগরীতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচল করতে পারবে না, অবৈধ স্ট্যান্ড থাকবে না বলে ঘোষণা দেন সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধযানের বিরুদ্ধের আজ (গতকাল) থেকে অভিযান শুরু হেয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকাল থেকে নগরের মেন্দিবাগ, নাইওরপুল, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, রিকাবীবাজার এবং পাঠানটুলা এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরের অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলো সরানোর ব্যাপারেও আমরা চিন্তা করছি। এগুলোর পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।