যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:০০ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:১২ পিএম
যশোরের শার্শায় জোর করে একটি পেট্রোল পাম্প দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন ওরফে আইনাল মেম্বার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি শার্শা উপজেলার বাগাচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে তনিমা তাসনুমা এক ভুক্তভোগী নারী এ অভিযোগ করেন। বিএনপির অভিনেতা
জাল-জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাম্পটি দখলে নিতে লাগাতার হামলা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী তনিমা তাসনুমা উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আনোয়ার হোসেন উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দলীয় পদ পদবীর প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তনিমা তাসনুমা জানান, তার বাবা গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালে বাগআঁচড়া মৌজার ১৭ শতক জমি কিনে মেসার্স গোলাম কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনটি স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করেন। ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এরপর ২০২৩ সাল থেকে শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার ও তার সহযোগীরা জাল দলিল তৈরি করে পেট্রোল পাম্পটি অনেকবার দখলের চেষ্টা করেন। সবশেষ বিচারকের সই জাল করে একটি হস্তান্তর চুক্তিনামা তৈরি করেন।
এ ঘটনায় জাল দলিলের বিরুদ্ধে তিনিও সই জালের ঘটনায় বিচারক বাদি হয়ে মামলা করেন। ওই মামলা দুটি চলমান থাকলেও থেমে নেই আনোয়ার ও তার লোকজনের অপতৎপরতা। সবশেষ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিলিং স্টেশনে ঢুকে পাম্পের চাবিসহ সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন এবং ম্যানেজারকে পাম্প থেকে বের করে দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা চলে যান। তবে দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাম্প দখল করার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প দখলের বিষয়টা সঠিক নয়। তিনি দাবি করে বলেন, ছয় কোটি ৮ লাখ টাকা দিয়ে তিনি জমি ও পেট্রোল পাম্পটি কিনেছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে পাম্পটি তিনি পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাম্প তার দখলে ছিল। গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী-সন্তানরা দলিল ও চুক্তিনামা মানেন না। তারা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি ও পুলিশকে দিয়ে আমার কাছ থেকে পাম্পটি দখল করে নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জহিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে খোঁজ-খবর না নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে যাতে খবর পরিবেশন না করা হয় এ ব্যাপারে পরামর্শ দেন এই নেতা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার ওসি আব্দুল আলিম বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পেট্রোল পাম্পের চাবি নিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পরেই বিস্তারিত জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন ওসি।