শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা মাঝিপাড়া এলাকায় গড়াই নদীর ভাঙনে একরের পর একর ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত তিন বছরে নদী ভাঙনের কবলে এলাকার প্রায় ২০ একর জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। সম্প্রতি আরও প্রায় ৫ একর জমি ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। বর্তমানে নদীর ভাঙন বেড়িবাঁধ ও শত শত বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গড়াই নদীর উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোত মুহূর্তেই পাড় ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে ভাঙন এলাকার পরিধি। নদীর এ ভাঙনের কবলে পড়েছে কোদলা মাঝিপাড়া এলাকা। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, গত তিন বছরে ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এখনই নদী ভাঙন রোধ করা না গেলে একরের পর একর ফসলি জমি, গাছপালা, বেড়িবাঁধসহ শত শত বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিনের আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্লাপ বাঁধ বা জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হোক।
ভুক্তভোগী মাঝিপাড়া গ্রামের কৃষক সাহেব আলী বলেন, গত তিন বছর ধরে আমাদের এ এলাকায় নদী ভাঙছে। আমাদের সব ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। এবারের ভাঙনে প্রায় ৫ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙন প্রায় বেড়িবাঁধের কাছাকাছি। আর এই বেড়িবাঁধের সাথেই আমাদের বাড়ি। বাড়িও আমাদের ঝুঁকির মুখে। বাড়ি ভেঙে গেলে আমাদের অন্য কোথাও জায়গা নেই যে, সেখানে গিয়ে বসবাস করবো। সরকারের কাছে আমরা নদী ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।
একই গ্রামের বাসিন্দা দিপক মণ্ডল বলেন, এই নদীর ভিতর আমাদের চাষাবাদের প্রায় ৫-৭ বিঘা জমি নদীর মধ্যে ভেঙে চলে গেছে। এখানে ২ বিঘা নিয়ে একটি খেলার মাঠ ছিল তাও নদী ভাঙনে বিলিন হয়ে গেছে। আমরা এতটাই আতঙ্কে আছি কখন যেন নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের ঘরবাড়ি নদীর ভিতর চলে যায়।
মাগুরা জেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক রাজু মোল্যা বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার গড়াই নদীর ভাঙনের প্রবণতা বেশি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নদীর পাড়ের সড়ক পর্যন্ত ভাঙন চলে এসেছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী খেটে খাওয়া দরিদ্র ও জনগোষ্ঠী চরম আতঙ্কে দিন পার করছে। অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকারী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার জাহান বলেন, “আমরা ভাঙনের বিষয়ে অবগত। তবে ভাঙন এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নাই, তবে ফসলি জমি রয়েছে। এখন পানি বেড়েছে, পানি কমলেই জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।